জম্মু-কাশ্মিরের একাংশে টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা চালু এবং মানুষের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উদযাপনকে নির্বিঘ্ন করতে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনার একদিন পর এমন পদক্ষেপ নিয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। শ্রীনগরে জামে মসজিদের ফটকও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার কাশ্মির নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন, ঈদুল আজহা উদযাপনে মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার একদিনের মাথায় আজ (৯ আগস্ট, শুক্রবার) শ্রীনগরের অভ্যন্তরে ছোট ছোট মসজিদে নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নামাজিদের সুবিধার্থে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ছিলো। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘কোনও সমস্যা ছাড়াই মুসল্লিরা নামাজ আদায় করলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে।’
রাজ্য পুলিশের প্রধান দিলবাগ সিং ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, প্রতিবেশিদের সঙ্গে জনগণকে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।’
জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর কথা বলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আব্দুল্লাহসহ প্রায় ৪০০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। গভর্নর সত্যপাল মালিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত করেছেন, ‘শুক্রবারের নামাজ ও ঈদের উৎসব উপলক্ষে পরবর্তী সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ঈদ উদযাপনের জন্য জম্মু-কাশ্মিরের বাইরে থাকা বন্ধুদের সেখানে ফিরে আসতে সব ধরনের সহায়তা করবে সরকার।’
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে বাস করা এ রাজ্যের মানুষেরা তাদের পরিবারের সাথে যোগোযোগ করতে পারছে না। ফোন ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে স্থানীয়দের যোগাযোগ সমস্যার কথা স্বীকারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে কারফিউয়ের মতো বিধিনিষেধ জারি থাকা সত্ত্বেও যারা কর্মসূত্রে দেশের অন্যান্য রাজ্যে রয়েছেন তাদের বেশিরভাগই পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে শ্রীনগরগামী বিমানের টিকিট কাটার চেষ্টা চালাচ্ছে।