দশ সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের অংশ হিসেবে হংকং-এর আন্তর্জাতিক বিমানন্দরে অবস্থান নিয়েছে গণতন্ত্রপন্থী কর্মীরা। তিন দিন ধরে সেখানে অবস্থানের মাধ্যমে বিমানবন্দরে আগত বিদেশিদের কাছে আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সমর্থন আদায়ে এই কর্মসূচি শুরু করেছে বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার দুপুরে কর্মসূচি শুরুর পর হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিমানবন্দরের মূল টার্মিনালের আগমনী হলে ঢুকে পড়ে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তায় সহায়তা করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রতিদিন এই বিমানবন্দরে প্রায় এগারোশো যাত্রীবাহি ও কার্গো বিমান ওঠানামা করে। এখান থেকে প্রায় দুইশোটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াত করে থাকে এসব বিমান।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন পুলিশ বাহিনী তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে বলে আশা করছেন তারা। শুক্রবার দুপুরে কর্মসূচি শুরু হলে বিক্ষোভকারীরা যাত্রীদের কাছে লিফলেট বিতরণ করে তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও দাবি তুলে ধরে। বিক্ষোভকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে রয়েছে, খসড়া বিল সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, সার্বজনীন ভোটাধিকার ও বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা বন্ধ করা।
এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে,যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা।
শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি সামনে রেখে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এর ফলে যাত্রীদের বিলম্ব হতে পারে জানিয়ে আগেভাগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইট জটিলতা সর্বনিম্ন রাখতে বৈধ টিকিট, বোর্ডিং পাস ও ভ্রমণ নথি ছাড়া কাউকে চেক ইন এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।