কাশ্মির ইস্যুতে বিবিসি’র বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ

কাশ্মিরকে ভারত অধিকৃত বলে বর্ণনা করায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র বিরুদ্ধে দ্বিমূখী নীতি গ্রহণের অভিযোগ তুলেছে ভারতীয়রা। প্রশ্ন তোলা হয়েছে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে কেন সংবাদমাধ্যমটি ব্রিটিশ অধিকৃত বলে বর্ণনা করে না। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম এই প্রশ্ন সামনে আনেন ব্রিটিশ-ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক শেখর কাপুর। দ্রুত তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সহ সভাপতি ওই টুইট শেয়ার করে লেখেন, কাশ্মির যেভাবে ভারতের অধীনে এসেছে সেই একই নিয়ম উপনিবেশিক ভারতের সব রাজ্যে প্রয়োগ করেছিল ব্রিটেন। তবে এক টুইট বার্তায় নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে কাশ্মির পরিস্থিতি কাভার করার দাবি করেছে ব্রিটিশ সরকারের মালিকানাধীন সংবাদ প্রতিষ্ঠান বিবিসি।

noname

গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ওই দিন সকাল থেকে শ্রীনগর কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে জম্মু-কাশ্মির। দোকান, স্কুল, কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনও গণপরিবহন নেই। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা জনশূন্য রাস্তায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র সেনারা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য কিছু সময় কারফিউ শিথিলের সুযোগে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার কাশ্মিরি।

ভারতের পক্ষ থেকে কাশ্মিরে বিক্ষোভ সংঘটিত হওয়ার খবর অস্বীকার করা হলেও জম্মু-কাশ্মিরে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভের ভিডিও প্রকাশ করে বিবিসি। স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে রাজধানী শ্রীনগরে শুক্রবার ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায় বিক্ষোভ দমনে ছররা গুলি ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করছে নিরাপত্তা বাহিনী। এছাড়া আগে থেকেই কাশ্মিরকে ভারত অধিকৃত বলে বর্ণনা করে আসছে সংবাদমাধ্যমটি।

রবিবার ব্রিটিশ-ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক শেখর কাপুর টুইট করে বিবিসি’র বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণের অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, ‘এই বিবিসি ওয়ার্ল্ড প্রতিবার তোমরা কাশ্মিরকে ভারত অধিকৃত কাশ্মির বললে আমি অবাক হয়ে যাই যে কেন তোমরা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ব্রিটিশ অধিকৃত আয়ারল্যান্ড বলতে অস্বীকার করো?’ শেখর কাপুরের এই টুইট ২৭ হাজারেরও বেশিবার রিটুইট হয়েছে, লাইক পড়েছে ৭৩ হাজারেরও বেশি।কাশ্মিরে বিক্ষোভের ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই বিবিসি`র সমালোচনা শুরু করেছে ভারতীয়রা

শেখর কাপুরের টুইট শেয়ার করে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সহ সভাপতি বৈজয়ন্ত পান্ডে লিখেছেন, 'কাশ্মির যেভাবে ভারতের অধীনে এসেছে সেই একই নিয়ম উপনিবেশিক ভারতের সব রাজ্যে প্রয়োগ করেছিল ব্রিটেন। তিনি লেখেন, এটা কখনোই দ্বিপক্ষীয় বা আন্তর্জাতিক ইস্যু ছিল না। সুতরাং দ্বিমুখী নীতি বন্ধ করুন আর যেখানে কোনও সমস্যাই নেই সেখানে তা তৈরি করা বন্ধ করুন'।

শেখর কাপুরের টুইটের প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই বিবিসি’কে তিব্বত, হংকং ও বেলুচিস্তানের ক্ষেত্রেও অধিকৃত ট্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। টুইটারে তৈরি হয়েছে ব্রিটিশ দখলকৃত আয়ারল্যান্ড হ্যাশট্যাগ। বিপুল পরিমাণে রিটুইটও হচ্ছে এই ট্যাগ। এক টুইট বার্তায় এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, ‘হয় বিবিসি নিউজ ভারতীয় রাজ্য জম্মু কাশ্মিরকে ভারত অধিকৃত কাশ্মির বলা বন্ধ করবে, না হয় ১৩২ কোটি ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রিটিশ অধিকৃত আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ড হ্যাশট্যাগ পোস্টের বন্যা বইয়ে দেবে’। ওই ব্যক্তির এই মন্তব্যই ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে বিবিসি নিউজ প্রেস টিম। তাদের এক টুইট বার্তায় লেখা হয়েছে, ‘বিবিসি তার সাংবাদিকতাতে টিকে আছে আর আমরা কাশ্মিরের ঘটনাপ্রবাহকে ভুল ভাবে তুলে ধরার যে কোনও দাবিকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা সেখানকার পরিস্থিতিকে নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে কাভার করছি। অন্য সম্প্রচারকারীদের মতো আমরাও বর্তমানে কাশ্মিরে কড়া বিধিনিষিধের মধ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছি কিন্তু যা ঘটছে তা নিয়ে প্রতিবেদন করা অব্যাহত রাখবো’।