পাঞ্জাবে অধ্যয়নতরত প্রায় ১২৫ জন কাশ্মিরি শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। আমন্ত্রণবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা তোমার পরিবারের পরিপূরক হতে পারবো না, তারপরও আশা করি আমাদের নিজে পরিবারের মতোই মনে করবে তোমরা।’ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
গত সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ওই দিন সকাল থেকে জম্মু-কাশ্মিরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।নিরাপত্তা চৌকি, নজরদারি আর কারফিউয়ের ঘেরাটোপে বন্দি হয়ে পড়েছে কাশ্মিরিদের ঈদের আনন্দ। প্রতি বছরই ঈদুল আজহার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে উৎসবের ঢেউ লেগে যায় উপত্যকায়। দলবেধে মানুষ বাজারে যায়; পোশাকসহ বিভিন্ন সাজসরঞ্জাম কেনে। বেকারির দোকানগুলোতে সাজসাজ রব পড়ে যায়। তবে এবারের বাস্তবতা একেবারেই আলাদা।
পাঞ্জাবে থাকা শিক্ষার্থীরা চাইলেও কাশ্মির যেতে পারছেন না। ফলে এবারের ঈদ তাদের পরিবার ছাড়াই কাটাতে হচ্ছে। তাদের চমকে দিতেই মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই চমক দেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১২৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঞ্জাব ভবনে মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানান তিনি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুব শিগগিরই উন্নতির দিকে যাবে বলে আশাবাদী
পাঞ্জাবে কাশ্মিরিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তোমরা আমাদের পরিবারের সদস্য। তিনি জানান, রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে অনেকদিন কাশ্মিরে না গেলেও প্রদেশটিকে তিনি তার নিজের দ্বিতীয় বাড়ি বলে মনে করেন।
শিক্ষার্থীরাও তখন বলে ওঠেন যে তারাও পাঞ্জাবকে নিজেদে দ্বিতীয় বাড়ি বলে মনে করেন। সেখানে সবসময়ই নিরাপদ বোধ করেছেন তারা, এমনকি পুলাওয়ামা হামলার পরও। শিক্ষার্থীরা জানান, পাঞ্জাবিদের মন অনেক বড়। তারা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। ফারজানা হাফিজ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে এসে আমাদের পরিবারের কথা মনে পড়েছে। আমন্ত্রণের আগ পর্যন্ত আমরা একাকীত্ব বোধ করছিলাম।’
সেসময় শিক্ষার্থীরা মুখ্যমন্ত্রীকে কাশ্মিরি চারুকলা শিক্ষার্থী আব্দুল আজাকের স্কেচ করা একটি ছবি উপহার দেন।
ওই মধ্যাহ্নভোজে আরও অংশ নেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ব্রাম মহিন্দ্রা এভং বলিবির সিং সিধু, মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম পরামর্শক রাভিন থুকরাল, উপদেষ্ট বিআইএস চাহাল, প্রধান সচিব কারান আভতার সিংসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।