কাশ্মির ইস্যুতে চাকরি ছাড়লেন কেরালা বন্যার ‘হিরো’ আইএএস কর্মকর্তা

ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং কেন্দ্রশাসিত দুইটি অঞ্চলে পরিণত করা ইস্যুতে সেখানে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কারফিউ পরিস্থিতি জারি রাখার প্রতিবাদে ভারতের এক আইএএস কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। ৩৩ বছরের ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) কর্মকর্তা কান্নান গোপীনাথ ২১ আগস্ট পদত্যাগ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এখবর জানিয়েছে।ias-kanan

চলতি বছরের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে পাস হয় বিল। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। গ্রেফতার করা হয় স্বাধীনতাপন্থী ও ভারতপন্থী রাজনৈতিক নেতাসহ চার হাজার মানুষকে। রাতের বেলায় বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে তরুণদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে।

পদত্যাগের সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে গোপীনাথ জানান, জম্মু ও কাশ্মিরে জনসাধারণের দুরাবস্থা অবর্ণনীয়। একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তিনি এই ব্যবস্থা মেনে নিতে পারছেন না। তাই তিনি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন।  

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোপীনাথ বলেন, ‘আমি চাকরি ছাড়লেই যে পরিস্থিতি বদলাবে বিষয়টা তেমন নয়। তবে নিজের বিবেকের কাছেও তো জবাবদিহি করতে হয়। তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম।’ 

দাদ্রা ও নগর হাভেলি-র মূল বিভাগগুলোর এই সচিব আরও বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মিরের লাখ লাখ মানুষের মৌলিক অধিকার গত ২০ দিন ধরে খর্ব করা হয়েছে। ৩৭০ ধারা বাতিল করা নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই। তবে এর জবাবে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করা হচ্ছে, সেটাই মূল বিষয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে তারা স্বাগত জানাতে পারে; এটা তাদের অধিকার।’

গোপীনাথ বলেন, সব স্বাধীন নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হয়েছে সেই বিষয়ের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।  আরেক সাবেক কর্মকর্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এমনকি যখন সাবেক আইএএস কর্মকর্তা শাহ ফয়সালকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে শ্রীনগরে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছিল, কারও কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। মনে হয়েছিল, দেশের শাসনব্যবস্থা ঠিকই আছে।’

২০১৮-এর কেরালার বন্যার সময় নিজের আমলা পরিচয় গোপন রেখেই ত্রাণ শিবিরের কাজ নিজ হাতে করেছিলেন। ওই সময় এ কাজের জন্য দেশের কাছে এক হিরো হয়ে উঠেছিলেন এই আইএএস কর্মকর্তা।

চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনে গোপীনাথ রিটার্নিং অফিসার থাকাকালীন প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তা এবং দাদ্রা ও নগর হাভেলির প্রশাসককে একটি বিতর্কিত নোটিশ প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যা তিনি গোপীনাথকে জারি করেছিলেন। সেইসঙ্গে প্রশাসনের কাছে ওই সময়ে তার ব্যাখ্যাও চেয়েছিলেন তিনি।

মিজোরামের কালেক্টর থাকার সময় খেলাধুলার জন্য দক্ষতা অর্জন করতে ভাল মানের কেন্দ্র ও শিশুদের ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণের জন্য ৩০টি তৃণমূল সেন্টার খুলতে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পুল্লেলা গোপীচাঁদকে উৎসাহিত করেছিলেন এই সরকারি কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, আইএসএস কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রকৌশলী গোপীনাথ বরাবরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। চাকরির আগে তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বিনা পারিশ্রমিকে বস্তিতে শিশুদের পড়াতেন। এনডিটিভির পক্ষে এই মুহূর্তে তার পরিকল্পনা কী সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন কী করব তা সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই।’