কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার অপ্রীতিকর ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনও অনুষ্ঠান আয়োজনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধনভুক্ত সংগঠনগুলোকে ক্যাম্পাস চত্বরে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠানের আগেই বক্তাদের নামের তালিকা জমা দিতে হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণ করে কোনও অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে তা পুলিশকে জানানো হবে। নির্বাহী কাউন্সিলের অনুমোদন পেলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
গত বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার মুখেই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, কালবুর্গি-রোহিত, ভেমুলার খুন, এনআরসিসহ বিজেপির বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে যান বাবুল। পরে পুলিশ পাহারায় ফিরে যান তিনি।
ভারতের সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠানের আগের দিনও অনুমতি নেওয়া যায়। এমনকি মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধা থাকে না। এবারে সেই নিয়মে বদল আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কাউন্সিলের অনুমোদনের দরকার পড়বে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘রেজিস্টার্ড সংগঠনগুলিকে বক্তাদের তালিকা রেজিস্ট্রারের অফিসে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে চলেছি। সেই সঙ্গে চিঠি জমা দিয়ে অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগেই অনুমতি নিয়ে রাখতে হবে।'