স্কুলের ফি দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই সন্তানকে খুন করলেন বাবা!

স্কুলের ফি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় নিজের ছয় বছরের সন্তানকে খুন করেছে এক বাবা। বৃহস্পতিবার ভারতের হরিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কুরুক্ষেত্র জেলায় মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।খুন
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা জসবীর সিংকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার অজয় ​​কুমার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাবা ডাবখেরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি ফার্মে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তবে গত দুই মাস ধরে তিনি বেকার।

পুলিশ জানিয়েছে, মেয়ের স্কুলের খরচ বহন করতে অক্ষম ছিলেন জসবীর সিং। আর সেই কারণে মেয়েকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, জসবীর সিং মেয়েকে তার মা হরজিন্দর কৌরের সামনেই হত্যা করে এবং পরে থানায় আত্মসমর্পণ করে। শিশুটির মা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হরজিন্দর কৌর সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, প্রতিবার বিদ্যালয়ের টাকার বিষয়টি তুললেই রেগে যেতো তার স্বামী। হরজিন্দর এই ঘটনায় লাডওয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এক সপ্তাহ আগেই এমনই আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর জেলায়। নবজাতক যমজ কন্যাকে জলাশয়ে ডুবিয়ে হত্যা করে তাদের মা-বাবা। গত রবিবার ওয়াসিম নামের ওই ঠিকা শ্রমিক এবং তার স্ত্রী নাজমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুইজনই স্বীকার করেছে সংসারের ব্যয় বহন করতে না পারায় তারা সন্তানদের হত্যা করেছে।

ওয়াসিম পুলিশকে জানায়, তার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। দুই মেয়ের ব্যয় বহনের ক্ষমতা তার নেই।

সাত বছরের এক পুত্র সন্তানও রয়েছে ওয়াসিম-নাজমা দম্পতির। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই মা-বাবার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) এবং ২০১ (অপরাধের তথ্য প্রমাণ লোপাট, বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া) ধারার অধীনে মামলা করা হয়েছে। ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুই মেয়ে জন্মানোর কারণে বহুদিন থেকেই ওয়াসিম ক্ষুব্ধ ছিল এবং এ নিয়ে প্রায়ই সে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করতো।