চীনের জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে হংকংয়ে ধরপাকড়

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে সহিংসতার আশঙ্কায় অন্তত দুজন নেতৃস্থানীয় আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে হংকংয়ের পুলিশ। সোমবার সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্টের আয়োজনে একটি বড় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ ওই সমাবেশকে নিষিদ্ধ করে দুজন নেতাকে গ্রেফতার করে। এছাড়া রবিবার শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

6016

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতা, বৃহত্তর গণতন্ত্র ও চীনের নিযুক্ত নির্বাহী প্রধানের পদত্যাগের দাবি। 

রবিবার টানা ১৭ সপ্তাহে গড়িয়েছে হংকংয়ের চীনবিরোধী আন্দোলন। সহিংসতার ঘটনা ঘটে এদিনও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। সোমবার এক বিবৃতি পুলিশ দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা তাদের  ঘিরে ফেললে তার সতর্ক গুলি চালান।  এদিন শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।   

সোমবার ১ জুলাই আন্দোলনে সহিংসতার দায়ে ভেন্তাস লাউ এবং অভিনেতা গ্রেগরি ওংকে গ্রেফতার করা হয়। ওংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ অপরাধে স্বড়যন্ত্র করেছেন তিনি। তবে বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।  ভান্তেস লাউ এর আগেও বেশ কিছু আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় প্রে ফর হংকং নামে আরেকটি আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে হংকংয়ের চীনপন্থী নেতা ক্যারি লাম ২০ জনের বহর নিয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য চীনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বেইজিং গিয়েছেন।  কমিউনিস্ট শাসনের ৭০ বছর পূর্তিতে চীনা ইতিহাসের অন্যতম বড় সামরিক কুচকাওয়াজ ও নিজেদের তৈরি বিপুল সংখ্যক সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী করতে যাচ্ছে বেইজিং। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার তিয়ানআনমেন স্কয়ারের এ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সেখানে দেশটির প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, জনগণের মধ্য থেকে নির্বাচিত কিছু ব্যক্তি এবং ৯৭টি দেশের সামরিক অ্যাটাশেরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করেছে চীন। রাজধানীর চারপাশে মোতায়েন করা হয়েছে অসংখ্য পুলিশ।  অধিকারকর্মীদের রাখা হয়েছে কড়া নজরদারিতে।   

হংকংয়ের এই আন্দোলনের পরিধি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও পড়েছে। তাইওয়ানে সঙ্গীতশিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট ডেনিস হো হংকংয়ের আন্দোলনরতদের পক্ষে কথা বলে হামলার শিকার হয়েছেন। হংকং-এর চীনবিরোধী বিক্ষোভ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। তাদের দমিয়ে রাখতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২ হাজার গ্যাস মুখোশ পাঠিয়েছেন অ্যালেক্স কো নামে এক  তাইওয়ানীয়।