শরিয়ার বিধানদাতা মুফতি নিজেই বেত্রাঘাতের শিকার

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে কঠোর শরিয়া আইন প্রচলিত। সেখানে  বিয়ে বর্হিভূত সম্পর্কের শাস্তি প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত। এই আইনের খসড়া করতে সহায়তা দেয় আচেহ ওলামা কাউন্সিল (এমপিইউ)। সেই কাউন্সিলের এক সদস্য বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের দায়ে নিজেদের খসড়াকৃত আইনেই ফেঁসে গেছেন। মুখলিস বিন মোহাম্মদ নামের ওই ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার ২৮ বার বেত্রাঘাত করা হয়েছে। আর তার সঙ্গে ‘সম্পর্কিত’ নারীকে ২৩টি বেত্রাঘাত করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, শরিয়া আইন চালুর পর সেখানে এই প্রথমবার কোনও মুফতি প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের শাস্তি পেলেন।noname

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ কঠোর রক্ষণশীল ইসলামিক বিধান প্রচলনের বিশেষ ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। ২০০৫ সাল থেকে এই প্রদেশে চালু রয়েছে শরিয়া আইন। বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের পাশাপাশি সমকামিতা ও জুয়ার শাস্তিও সেখানে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত। সরকারকে এই আইন কার্যকর করতে পরামর্শ এবং আইনি খসড়া করতে সহায়তা দেয় এমপিইউ।  

বেত্রাঘাতের শাস্তি পাওয়া ৪৬ বছরের মুখলিস বিন মোহাম্মদ সেই এমপিইউ-এর একজন ইসলামি মুফতি। তিনি আচেহ প্রদেশের বেসার জেলায় থাকেন। সেপ্টেম্বর মাসে এক বিবাহিত নারীসহ তাকে একটি পর্যটন উপকূলের পার্ক করা একটি গাড়ি থেকে আটক করে কর্মকর্তারা।  বৃহস্পতিবার তাদের বেত্রাঘাত করা হয়। বেসারের ডেপুটি মেয়র হুসাইনি ওয়াহাব বলেন, ‘এটা আল্লাহর আইন। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে বেত্রাঘাত করতে হবে, সে ওলামা কাউন্সিলের সদস্য হলেও’।  তিনি জানান মুখলিসকে এমপিইউ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

আচেহ প্রদেশে ২০১৪ সালে সমকাম বিরোধী আইন পাস হয়। আর পরের বছর থেকেই সেখানে ওই আইন কার্যকর শুরু হয়। শরিয়া আইন অনুযায়ী বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক, জুয়া, মদপান, অ্যালকোহল উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ২০১৭ সালে সমকামিতার দায়ে সেখানকার দুই পুরুষের প্রত্যেককে ৮৩ বার বেত্রাঘাত করা হয়।

যে ব্যক্তি বেত্রাঘাতের শাস্তি কার্যকর করে তার পরিচয় গোপন রাখতে চোখ ছাড়া সম্পূর্ণ দেহ ঢেকে রাখা হয়। উন্মুক্ত স্থানে বানানো মঞ্চের ওপর এই শাস্তি কার্যকর করা হয়। তবে শিশুদের সেখান থেকে দূরে রাখা হয়। আচেহ প্রদেশে বসবাসরত মুসলিম-অমুসলিম সবার জন্যই শরিয়া আইন প্রযোজ্য।