হংকংয়ে বিক্ষোভকারীর শরীরে আগুন

হংকংয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে এক বিক্ষোভকারীর শরীরে আগুন দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  এছাড়া পুলিশের গুলিতে আহত হওয়া বিক্ষোভকারীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

_109610064_hong

৯ জুন হংকংয়ে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতার দাবি। সোমবারের বিক্ষোভে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

সোমবার সকালেই খুব কাছ থেকে ওই ব্যক্তিকে গুলি করা হয়। ২৪ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া আন্দোলনে এই নিয়ে তৃতীয়বার কারও ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এরপরই এক বিক্ষোভকারীর শরীরে আগুন দেওয়া হয়। দুটি ঘটনারই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিটি সবুজ পোশাক পরা ছিলো। তিনি অন্য বিক্ষোভকারীদের বলছে, 'তোমরা কেউই চীনা নও'। তখন বাকিরা জবাব দিচ্ছে 'তুমি গ্রেটার বে এরিয়ায় চলে যাও' - যা হংকং সীমান্তের ওপারে চীনা মূলভূমির একটি অংশ। এর পর লোকটির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভিডিও ফুটেজে তার সারা গায়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রশাসক ক্যারি লাম হুঁশিয়ারি দেন যে বিক্ষোভকারীরা দাবি আদায়ে সফল হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা হংকংয়ে সহিংসতা থামাতে যে কোনও পদক্ষেপ নেবো।’

গত ৮ নভেম্বর হংকংয়ে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থীদের চীনবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নেয়। ৪ নভেম্বর বিক্ষোভে পুলিশের অভিযানকালে গুরুতর আহত হন অ্যালেক্স চো নামের ওই শিক্ষার্থী। কয়েক দিনের মাথায় গত ৮ নভেম্বর তার মৃত্যুর পর বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়। এ ঘটনায় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে হংকং সিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের এ আহ্বানকে সমর্থন করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

একসময়কার ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন।