দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) নিয়ে আশাবাদী নন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বার্টিল লিটনার। তিনি মনে করেন, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা খাতে এই জোট কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে না। লিটনারের মতে, বাণিজ্যের নিজস্ব গতি রয়েছে। আর উপনিবেশ কালের অভিজ্ঞতার কারণে জোটভূক্ত দেশগুলো কোনও উপরিকাঠামোর কাছে তাদের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেবে না।
১৯৯৭ সালে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে বিমসটেক গঠিত হয়। ১৪টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে জোটটি। একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও তাদের বিবেচনাধীন।
বিমসটেক বিষয়ে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) দুই দিনের সম্মেলনের এক পার্শ্ববৈঠকে রবিবার যোগ দেন দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ বার্টিল লিটনার। কলকাতায় আয়োজিত ওই সভায় তিনি বলেন, ‘আমি সন্দিহান। লোকজন বৈঠক করছে কিন্তু সংস্থাটিকে সামনে এগিয়ে নিতে কোনও মহাপরিকল্পনা নিতে পারছে না। মিয়ানমার, চীন, উত্তর কোরিয়া নিয়ে অর্ধডজনেরও বেশি বইয়ের এই লেখক বলেন, বিমসটেকের বাণিজ্য আলোচনার গুরুত্ব সামান্যই।
বার্টিল লিটনারের মতে জোটের সদস্য দেশগুলো শুল্ক শিথিল করতে পারে বা বন্দরে প্রণোদনা দিতে পারে; তবে বাণিজ্যের নিজস্ব গতি আছে।
নিরাপত্তা প্রশ্নেও বিমসটেক কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহপোষণ করেন এই বিশেষজ্ঞ। বলেন, ‘আমার মনে হয় না কোনও দেশ কোনও ধরণের আঞ্চলিক উপরিকাঠামো মেনে নেবে; উপনিবেশিক শাসনবিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাস তাদের স্মরণ আছে আর সেকারণে তারা কোনও উপরিকাঠামোর কাছে তাদের সার্বভৌমত্ব সমর্পণ করবে না।’
রোহিঙ্গা প্রশ্নে বিমসটেক কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি উল্লেখ করে বার্টিল লিটনার বলেন, এই অঞ্চলের কোনও আঞ্চলিক জোটই চীনের প্রভাবে পরিবর্তন আনতে পারবে না।