চলমান সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রণকৌশলের কারণে সু চি দেশের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন; এমন গুঞ্জনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন এবং সামরিক কমান্ডার মিন অং হ্লাইং এর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি নিশ্চিত করেছে।
‘জাতীয় সমন্বয়ের’ ডাক দিয়ে বর্তমান শাসকদের চিঠি পাঠানোর ৩ সপ্তাহের মাথায় সোমবার সু চির সঙ্গে ওই দুই শাসকের বৈঠকের তারিখ ঘোষণা করা হয়। বুধবার গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী ২টা ৩০ মিনিটে প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন এবং ৭টা ৩০ মিনিটে সামরিক কমান্ডার মিন অং হ্লাইং-এর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে সু চির।
আসছে বছর ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমে সু চির দলের শাসনভার নেয়ার প্রশ্নে আলোচনা করতেই বৈঠক করবেন তারা।
সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনডিএ) এ বছর নভেম্বরের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে সংসদের উচ্চ এবং নিম্নকক্ষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বেশিরভাগ আঞ্চলিক আসনেও জয় পায় দলটি।
তবে সবমিলে দেশের জনগণ একটি বড় ধরনের পরিবর্তন প্রত্যাশা করলেও সামরিক বাহিনীর সহায়তা ছাড়া সু চির পক্ষে তেমন কিছু করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন ইয়াঙ্গুনভিত্তিক একজন রাজনীতি বিশ্লেষক থেইন ইয়ান।
কারণ হিসেবে আল জাজিরাকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সংসদের ২৫ শতাংশ আসন, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়-সহ গুরুত্বপূর্ণ সব আঞ্চলিক সরকারের সব নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সামরিক বাহিনীর দখলে।
বিদেশি নাগরিক বিয়ে করার অজুহাতে বর্তমান সংবিধানের সংশোধনীতে সু চির প্রেসিডেন্ট হবারও সুযোগ রহিত করা হয়েছে।
যদিও তার দলের কারও কারও মত, প্রয়োজনে সংবিধান স্থগিতের মধ্যে দিয়ে হলেও সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত। তবে প্রেসিডেন্ট ও সামরিক কমান্ড্যারের সঙ্গে সেসব বিষয়ে কথা হবে কিনা, সু চির দলের কেউ আল জাজিরাকে নিশ্চিত করে তা বলেনি।
সরকারের তরফেও বৈঠকের আলোচ্যসূচির ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
/বিএ/