আবারও কাশ্মির ইস্যুতে বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ

ভারত শাসিত কাশ্মিরের পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার নতুন আলোচনায় বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গত আগস্টে একই ধরণের একটি আলোচনার পর নতুন এই বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে চীন। গত ১২ ডিসেম্বর কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি। পাকিস্তানের অনুরোধের প্রতিধ্বনি করে চীনের তরফে বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।noname

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে সেখানকার নাগরিকদের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বন্দি করা হয় হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকে। এ ঘটনার পর জাতিসংঘে বৈঠকের আবেদন করে পাকিস্তান। পরে তাদের মিত্র চীনের অনুরোধে ১৬ আগস্ট রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে নিরাপত্তা পরিষদ। ৯০ মিনিটের ওই বৈঠকে কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে সদস্য দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখলেও কোনও বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হয় জাতিসংঘের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই পরিষদ।

কাশ্মিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে উদ্বেগ জানিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নতুন চিঠি দেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি। এরপরেই নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোকে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয় চীন। জাতিসংঘে নিযুক্ত বেইজিংয়ের দূতের লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, কাশ্মিরের পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে পাকিস্তানের অনুরোধের প্রতিধ্বনি করতে চায় চীন।

পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই কাশ্মিরকে নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর দুই প্রতিবেশীর তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি সংঘটিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে। এক সামরিক নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে কাশ্মিরকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। ভারতের শাসনে রয়েছে ৪৫ শতাংশ এলাকা আর পাকিস্তান শাসন করে ৩৫ শতাংশ অঞ্চল। আর বাকি অঞ্চল শাসন করে চীন। কাশ্মিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করতে ১৯৪৯ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েন আছে।

১৯৪৮ ও ১৯৫০ এ বেশ কাশ্মির ইস্যুতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এর একটিতে কাশ্মিরের মুসলমানদের ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারণে গণভোটের কথা বলা হয়েছে। আর এক প্রস্তাবে দুই পক্ষকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।