জামিয়ার পাশে হার্ভার্ডসহ ১৯ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

দিল্লির জামিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে হার্ভার্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার তাদের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী জামিয়া মিলিয়া ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পুলিশ হামলার নিন্দা জানায়।

AMU_570_850

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত। ১২ ডিসেম্বর রাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরেই আইনে পরিণত হয়েছে বিতর্কিত বিলটি। তারপর থেকেই সহিংসতা বেড়েছে সমগ্র ভারতে। রবিবার সন্ধ্যায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে জামিয়ার শিক্ষার্থীরা। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। রবিবারের হামলার প্রতিবাদে রাতেই দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। সোমবার সেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রথম সারির প্রায় সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সকাল থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাম্পাসের চেহারা পাল্টাতে থাকে। ক্লাসরুম নয়, জামিয়া মিলিয়ায় পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদ জানাতে রাস্তাই ছিল শিক্ষার্থীদের একমাত্র গন্তব্য।

জামিয়া ও আলিগড়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে হার্ভার্ড, ইয়েল, কলম্বিয়া, স্ট্যানফোর্ড ও টাফসের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী। এক বিবৃতিতে তারা জানান, আমরা পুলিশ সহিংসতা বন্ধের দাবি জানাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে তাদের সম্পূর্ণরুপে প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংবিধানের আলোকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানান তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের ওপর আধাসামরিক বাহিনী সহিংসতা চালিয়েছে।

এছাড়া আসামে পুলিশি সহিংসতায় পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনাতেও নিন্দা জানিয়েছে ওই ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা এই আন্দোলনকে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ‘দাঙ্গা’ অভিহিত করা ও আন্দোলনের অধিকার খর্ব করার কথা না বলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আহ্বান জানাই যেন দ্রুত পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নয়তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানান তারা।

অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের নিন্দা জানায় এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংস পদক্ষেপের সমালোচনা করে। প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

এদিকে ভারতে জামিয়ায় হামলার পরপরই প্রতিবাদে নামে দিল্লির জওহরলাল নেহরু ও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে এই বিক্ষোভে সামিল হয় অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ঘটনার জেরে রবিবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিলের দাবি তোলে। কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু শিক্ষার্থী পরীক্ষা বয়কট করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসে কলা অনুষদের বাইরে বিক্ষোভ করে তারা। জমায়েত থেকে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রবিরোধী স্লোগান ওঠে।