বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে পুলিশ স্টেশন, বৈঠক ডাকলেন অমিত শাহ

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভারতের ম্যাঙ্গালুরু ও লক্ষ্ণৌতে এরইমধ্যে পুলিশের গুলিতে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে তারা প্রাণ হারায়। উত্তর প্রদেশের রাজধানীর একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ বৈঠক আহ্বান করা হয়।

WhatsApp-Image-2019-12-19-at-20.24.40-650x336

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত। গত ১২ ডিসেম্বর রাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরেই আইনে পরিণত হওয়া বিলটি শুরু থেকেই মুসলিমবিরোধী আখ্যা পেয়েছে। বিতর্কিত এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দেশজুড়ে সরব একাধিক রাজনৈতিক দল। চলছে দফায় দফায় বিক্ষোভ।

ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে,  বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্ণৌতে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। কিং জর্জ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রমা সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদ্বীপ তিওয়ারি সংবাদমাধ্যম পিটিআই'কে জানিয়েছেন, ‘আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে মোহাম্মদ ওয়াকিল (২৫) নিহত হয়েছেন। এখানে আরও দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের একজন আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে আহত।’

এ ব্যাপারে পুলিশের তরফেও কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রধান ওপি সিং জানিয়েছেন, এ রাজ্যের একটি পুলিশ চৌকির সামনে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। সেখানে পথসভা করছিল তারা। সে সময় সেখান থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়েছে তারা। তখন তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এসময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। একইদিনে কর্নাটকে পুলিশের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুলি ছুঁড়তে দেখা গেছে।

দেশজুড়ে বিক্ষোভ-আন্দোলনের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ডাকা জরুরি বৈঠকের বিষয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় কুমার ভাল্লার থাকার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে উত্তর প্রদেশ, ব্যাঙ্গালুরু, মুম্বাই ও দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে ইন্সটাগ্রাম ও টুইটারে আহ্বান জানাচ্ছেন নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী, অ্যাক্টিভিস্ট ও সাধারণ জনগণ। তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিচ্ছেন। আন্দোলনের মুখে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে রাজধানী দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, ব্যাঙ্গালুরুসহ কর্ণাটকের কিছু এলাকায়। তবে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সে সময় শীর্ষ রাজনীতিক থেকে শুরু করে প্রখ্যাত ইতিহাসবীদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন সময় এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।