ঝাড়খণ্ডে বিজেপির পতন

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।  আঞ্চলিক দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও জাতীয় কংগ্রেসের জোট সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিশ্চিত করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে হার মেনে নিয়ে জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি প্রধান অমিত শাহ।

1a4e9ff9e4da32922fb1af707fda2d62

ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় মোট আসন ৮১। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতে দরকার পড়ে ৪১ আসন। তবে জেএমএম-কংগ্রেস জোট ৪৬ আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে বিজেপি পেয়েছে ২৫টি আসন। ইতোমধ্যে সেখানে কংগ্রেস সমর্থকরা জয় উদযাপন শুরু করে দিয়েছে। জোটের নেতা হেমন্ত শোরেনই হতে যাচ্ছেন সেখানকার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে ভোটের ফল মেনে নিয়েছে বিজেপি। প্রধান অমিত শাহ বলেন,ঝাড়খণ্ডের জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা করে বিজেপি।

সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারে থাকলেও আঞ্চলিক নির্বাচনে ক্রমেই প্রভাব হারাচ্ছে বিজেপি। গত বছর রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেসের কাছে হেরে গিয়েছিলো নরেন্দ্র মোদির দল।   

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল ৩৭ আসনে। জোটসঙ্গী আজসু পেয়েছিল পাঁচটি আসন। ম্যাজিক ফিগারের থেকে একটি আসন বেশি ছিল জোটের। কিন্তু ২০১৫-র গোড়াতেই জেভিএমের ছয় বিধায়ক বিজেপিতে চলে আসার পর, বিজেপি একাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায় বিধানসভায়। ঝাড়খণ্ডের ইতিহাসে সেই প্রথম, বিধানসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কোনও দল। রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন রঘুবর দাস।

উল্লেখ্য, রাজ্য গঠনের পর থেকেই ঝাড়খণ্ডে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বারবার ফিরে এসেছে। জোট ভেঙেছে, নতুন জোট হয়েছে বারবার। তিনবার রাজ্যটিতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়েছে। ২০ বছরে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ছয়জন। কেউ কেউ দুই বার করে। মোট ১০ বার শপথ হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীদের। কিন্তু রঘুবরের আগে, কোনও মুখ্যমন্ত্রী আড়াই বছর পর্যন্তও টিকে থাকতে পারেননি।