পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক তালিকা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণান নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

begal-hc-780x470

বিজেপি সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) নিয়ে বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন তার রাজ্যে এই আইন বাস্তবায়ন করতে দেবেন না তিনি। সেই সঙ্গে এই আইন বিরোধী বিজ্ঞাপনও প্রচার করে তারা।  ‘জনস্বার্থে প্রচারিত’ ওই বিজ্ঞাপনে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল এ রাজ্যে স‌ংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ কার্যকর হবে না।

কোনও কেন্দ্রীয় আইনের বিরোধিতা করে একটি রাজ্যের সরকার ওই বিজ্ঞাপন দিতে পারে কি না তা নিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। তার আগেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে রাজ্যে অশান্তি এবং ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মামলা করেন হাওড়ার এক বাসিন্দা।

ইন্টারনেট পরিষেবা কেন বন্ধ রাখা হয়েছে, তা নিয়েও পৃথক মামলা হয় হাইকোর্টে। ওই সমস্ত মামলাই এ দিন একসঙ্গে শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে জানায়, আগামী ৯ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। ততদিন ওই বিজ্ঞাপন কোনও ভাবে প্রচার করা যাবে না। পরবর্তী শুনানির দিন রাজ্যকে জানাতে হবে কী কী কারণে রাজ্য ওই বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। ততদিন পর্যন্ত সরকারি টাকায় ওই বিজ্ঞাপন না দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

এদিকে কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চকে জানান যে সিএএ এবং এনআরসি সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের যে বিজ্ঞাপন নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেই বিজ্ঞাপন ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

তবে অ্যাডভোকেট জেনারেলের বয়ানের বিরোধিতা করে মামলাকারীর আইনজীবীরা জানান, এখনও সামাজিক মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রাজ্য সরকারের হয়ে জনস্বার্থে প্রচারিত ওই বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে।  পরদিনই প্রধান বিচারপতি টিবি রাধাকৃষ্ণন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে ওই বিজ্ঞাপন অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতের কাছে দাবি করেন, এই মুহূর্তে পরিস্থিতি রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে। কোথাও কোনও অশান্তির খবর নেই। পুলিশ যথোপযুক্ত ব্যব্স্থা নিয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের সমস্ত জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে।

পরে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, পূর্ব রেল এবং দক্ষিণ পূর্ব রেলকে সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় রেলের কী কী ক্ষতি হয়েছে পরবর্তী শুনানির দিন তার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।  

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত। গত ১২ ডিসেম্বর রাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরেই আইনে পরিণত হওয়া বিলটি শুরু থেকেই মুসলিমবিরোধী আখ্যা পেয়েছে। বিতর্কিত এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দেশজুড়ে সরব একাধিক রাজনৈতিক দল। চলছে দফায় দফায় বিক্ষোভ।