বিজেপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে: শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন শিবসেনার প্রভাবশালী নেতা ও আইনপ্রণেতা সঞ্জয় রাউত। বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালু করায় তিনি এ অভিযোগ করেন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) মার্কিন রাজনীতিক মার্টিন লুথার কিংয়ের উক্তি উদ্ধৃত করে সঞ্জয় বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি হলে বুঝতে হবে দেশ ভুল শাসকের হাতে রয়েছে।’ সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

raut_570_850

গত ৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ৩১১-৮০ ভোটে লোকসভার অনুমোদন পায় ‘দ্য সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৯’ শীর্ষক বিতর্কিত বিলটি। সে সময় লোকসভায় ওই বিলের সমর্থনে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল শিবসেনা। পরে বুধবার বিজেপির আনা বিলটি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় উত্থাপনের পর আইনপ্রণেতাদের বিতর্ক হয়। সে সময় শিবসেনা অভিযোগ করে, ভোটব্যাংকের জন্য বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সিএবি’তে সংশোধন আনতে চাইছেন। এরপর অবশ্য বিলে অস্পষ্টতার কারণ দেখিয়ে রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করে তারা। ওইদিনই রাজ্যসভাতে পাস হয় তা। এরপর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে এটি আইনে পরিণত হয়। শুরু থেকে এটাকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে।

শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, ‘যে দেশে ধর্মীয় বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, রাজনীতি করতে ধর্মীয় ইস্যু তৈরি করা হয়- তখন বুঝতে হবে দেশ ভুল শাসকের হাতে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করতে চাইছে বিজেপি।

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে এই আইন করে ভারত। গত ১২ ডিসেম্বর রাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরেই আইনে পরিণত হওয়া বিলটি শুরু থেকেই ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা পেয়েছে। কংগ্রেসসহ বিরোধীরা অভিযোগ করে বলেছে, ধর্মের নামে দেশ ভাগের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার।