সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর জগদীপ ধনখড়। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে ফিরে গেছেন তিনি। পরে তাকে ছাড়াই আচার্যের আসন শুন্য রেখেই শুরু হয় বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠান। বিক্ষোভের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন তিনি।
গত ১২ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের পর দেশ জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলে আইনটির পক্ষ নেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর জগদীপ ধনখড়। সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে যোগ দিতে সোমবার ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। ওই সময় তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় শত শত শিক্ষার্থী। কালো পতাকা হাতে নিয়ে তাকে ফিরে যাওয়ার কথা বলে স্লোগান দেওয়া হয়। পরে বৈঠক শেষে মঙ্গলবারের সমাবর্তনে যোগ দেবেন বলে জানিয়ে যান।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে গভর্নরের গাড়ি ঘিরে কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। ওই সময়ে গাড়ির মধ্যে বসেই টুইট করতে থাকেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনগড়।
‘বাধা সৃষ্টিকারীদের’ সংখ্যা ৫০ জন হতে পারে দাবি করে টুইট বার্তায় রাজ্যপাল বলেন, ‘আইনের শাসন দেখা যাচ্ছে না। সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে আমি উদ্বিগ্ন’। পরে গাড়ি থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এই অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত’। রাজ্য সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনীতি করছে অভিযোগ করে এ থেকে সরে আসতে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান তিনি।
প্রায় দেড়ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফেরত যেতে বাধ্য হন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি চলে যাওয়ার পরই সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হয়। আচার্যের আসন শুন্য রেখেই চলে বার্ষিক এই সমাবর্তন।