মালয়েশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রে জাকির নায়েক, সমালোচনার ঝড়

মালয়েশিয়ার এক স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে ‘মুসলিম বিশ্বের অন্যতম আইকন’ বলে সম্বোধন করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মালয়েশীয় ভারতীয় কংগ্রেস পার্টি (এমআইসি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই প্রশ্নের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

462519

ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে। তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন তিনি। ২০১৮ সালে দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলেও মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ তার ন্যায় বিচার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা বলে তাকে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পারলিসে একটি প্রশ্নপত্রে জাকির নায়েককে ইসলামি বিশ্বের অন্যতম আইকন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, জাকির নায়েক ইসলামের প্রচারে অনেক সক্রিয়। তিনি কোরআন ও রাসূল (স.) এর সুন্নাহ'র আলোকে ইসলাম প্রচার করেন। তাকে যে কোনও প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দিতে পারেন। তবে মালয়েশিয়ায় তিনি বক্তব্য রাখতে পারেন না। একজন মালয়েশীয় হিসেবে আপনার কী মনে হয়, কেন এমনটা হয়েছে?

বিতর্কিত ওই প্রশ্নের উত্তরের জায়গায় ৪টি জবাব দেওয়া ছিলো। ১. মালয়েশীয়রা মাথা ঘামায় না, ২) স্পর্শকাতর মালয়েশীয়রা ঝুঁকি অনুভব করে ৩) কিছু মালয়েশীয় কোনও কারণ ছাড়াই অবদমিত থাকতে চায় ৪) মালয়েশীয়রা নিজ ধর্ম নিয়ে অজ্ঞ।

এই প্রশ্নপত্রের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয়ে আলোচনা-সমালোচনা। এমআইসি এর ভাইস চিফ দাতুক সি সিভরাজা বলেন, এই প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃগোষ্ঠী সম্পর্ক ভিত্তিক একটি কোর্সের ছিলো। আর তা রবিবার অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না এমন পরীক্ষার প্রশ্নে কেন বর্ণগত সংবেদনশীলতাকে সম্মান জানানো হয়নি। এতে করে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, আমি আশার করি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন। 

তবে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষাগত বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করবেন না।