কারাগারে আমি ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছি: বন্ধুকে অ্যাসাঞ্জ

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নিজের স্বাস্থ্যের অবনতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তার বন্ধুকে বলেছেন, আমি এখানে (কারাগার) ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছি। বড়দিন উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের কারাগার থেকে এক টেলিফোন কলে অ্যাসাঞ্জ এমন তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার বন্ধু ব্রিটিশ সাংবাদিক ভ্যাগহাম স্মিথ।

5e0a8d69203027370050b089

২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। গত ১১ এপ্রিল রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ওইদিনই তাকে জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ব্রিটিশ আদালত।  বেলমার্শ নামক কুখ্যাত কারাগারে সাজা ভোগ করছেন অ্যাসাঞ্জ।

সাড়া জাগানো বিকল্পধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে  বড়দিন উপলক্ষ্যে একটি টেলিফোনে কলের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে তিনি কথা বলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ভ্যাগহাম স্মিথের সঙ্গে। কারাবন্দি করার থেকে ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতির শঙ্কা বাড়ছে। ব্রিটিশ সাংবাদিক ভ্যাগহাম উল্লেখ করেছেন,  কথা বলার সময় অ্যাসাঞ্জের অনেক সমস্যা হচ্ছিল। তার শরীরে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা ভ্যাগহামের।

22847636-7840847-image-a-2_1577814087117

স্মিথ রুশ বার্তা সংস্থা আরটি’কে বলেছেন, ‘অ্যাসাঞ্জ অত্যন্ত স্পষ্টভাষী যখন তিনি কথা বলেন। তবে সেদিন কথা বলার সময় তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল। তিনি ধীরে ধীরে কথা বলছিলেন। ভয় পাচ্ছিলেন। তার কণ্ঠ শুনে আমি হতাশ। অ্যাসাঞ্জ আমাকে বলেছেন, তিনি সেখানে ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছেন।’ উল্লেখ্য, এর আগেও স্মিথ অ্যাসাঞ্জকে ‘অপচিকিৎসা’ করানোর অভিযোগ করেছেন। তবে কারাগারে সাইকোট্রপিক ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ধারাকে বদলে দেওয়া অ্যাকটিভিস্ট ও সাংবাদিক অ্যাসাঞ্জকে রাখা হয়েছে এমন এক কুখ্যাত কারাগারে, যেটিকে কেউ কেউ ‘যুক্তরাজ্যের গুয়ানতানামো বে’ নামে ডেকে থাকেন। ৯/১১-এর হামলার পর প্রণীত এক বিতর্কিত সন্ত্রাসী আইনে অভিযুক্তদের বেলমার্শ নামক ওই কারাগারটিতে রাখা হতো। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস আইনটি পাসের সময় তাদের মতামতে বলেছিল: এটি মৌলিক মানবাধিকারবিরোধী আইন। টুইন টাওয়ার হামলা কিংবা আইএস’র জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীসহ ভয়ঙ্কর সব অপরাধে অভিযুক্তরাই বেলমার্শ কারাগারে সংখ্যাগরিষ্ঠ। স্মিথ বলেছেন, ‘আমি বুঝি না কেন তাকে বেলমার্শ কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি একজন হাজতি বন্দি। তিনি তো জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর নয়।’

অ্যাসাঞ্জের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে এর আগে ৬০ জনের বেশি চিকিৎসক খোলা চিঠি লিখেছিলেন। তাদের আশঙ্কা, উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতাকে যথাযথ চিকিৎসা ও মুক্তি না দিলে কারাগারে তার মৃত্যু হতে পারে। এর আগে জাতিসংঘের স্বাধীন মানাবধিকার বিশেষজ্ঞ বলেছেন, চলমান স্বেচ্ছাচারিতা ও নিপীড়নে দ্রুতই জীবন দিয়ে অ্যাসাঞ্জকে মূল্য দিতে হতে পারে।

২০১৯ সালের ১ মে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ৫০ সপ্তাহের সাজা ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে সরকারি কম্পিউটার হ্যাক ও গুপ্তচর আইন লঙ্ঘনসহ ১৮টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ১৭৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।