দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভার রুমে হামলার অভিযোগে করা মামলার ব্যাপারে ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি কোনও সহিংসতায় ছিলেন না। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে তার বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে, হোস্টেল ফি বাড়ানোর প্রতিবাদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সার্ভার রুমে হামলা চালিয়েছে ও টেকনিকাল স্টাফদের আহত করেছে। এতে করে সেমিস্টারের নিবন্ধন কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে রবিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে দু্টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দায়ের করা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে, ১ ও ৪ জানুয়রি ঐশীসহ ২৬ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর হামলা চালিয়ে সার্ভার রুমে প্রবেশ করে।
তবে হামলার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের দাবি করেছিলো, কয়েকজন মুখোশধারী নিরাপত্তারক্ষী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তারা জানায়, হামলাকারীরা মুখোশ পড়া ছিলো। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ঐশীকে তারা সবার সামনে থাপ্পর মারে।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় জেএনইউতে প্রবেশ করে হামলা চালায় একদল মুখোশধারী। লাঠি ও পাথর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে ত্রাসের সঞ্চার করে তারা। হামলায় অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯ শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক। ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান থেকে জানা যায় বিজেপি-সংশ্লিষ্ট হিন্দুত্ববাদী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি এই হামলা চালিয়েছে। হামলার পর এইমস হাসপাতালে পাঠানো হয় আহত ঐশী ঘোষকে। সেখান থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় একটি ভিডিওয়ে তিনি জানান, নৃশংস ভাবে মারধর করা হয়েছে তাকে। পরে জানা যায়, ১৬টি সেলাই পড়েছে তার মাথায়।
ওই একই সময় তাকেই দায়ী করে পুলিশের কাছে মামলা করা হয়। মামলার জবাবে ঐশী বলেন, আমি কোনও সহিংসতায় যুক্ত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে পুলিশকে প্রথমে আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ হাজির করতে হবে।
ঐশী বলেন, এটি বানোয়াট। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ফাঁসাতে মনগড়া এই গল্প তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘এমন কিছুই ঘটেনি। আমার কাছে ভয়েস মেসেজ ও স্ক্রিনশটের প্রমাণ আছে। সার্ভার রুমে নিরাপত্তা রক্ষীরাই বরং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এবিভিপি কর্মীরা এসে আমাদের গণপিটুনির মতো করে মেরেছে।’ তাকেও নিরাপত্তা রক্ষী থাপ্পর মেরেছিলো বলে দাবি করেন ঐশী।
ঐশী বলেন, প্রশাসন খুব বুদ্ধিদীপ্তভাবে খেলছে এবং হামলাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসন এবিভিপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে না কেন?
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঐশী। তিনি বলেন, ‘যে লোহার রডের বাড়ি আমাদের শরীরে পড়েছে তার জবাব দেওয়া হবে বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমেই। জেএনইউয়ের সংস্কৃতি কোনও হিংসাকে প্রশ্রয় দেয় না। আমরাও গণতান্ত্রিক পথেই মোকাবিলা করব হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের।”
ঐশী দাবি করেন, ‘খুন করার উদ্দেশ্য নিয়েই হামলা চালানো হয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরেই সঙ্ঘ পরিবারের কিছু অধ্যাপক আমাদের আন্দোলন ভাঙার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। কাল যে ঘটনা ঘটেছে তাতে স্পষ্ট যে, মুখোশ পরা গুন্ডাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালিয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের একটা বোঝাপড়া ছিল। না হলে ওই ভাবে সংগঠিত হামলা চালানো যায় না।’
ঐশীর বিরুদ্ধে করা এফআইআর এর যৌক্তিকতার প্রশ্ন তুলে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়েছে জেএনইউ শিক্ষক সমিতি। সমিতির সেক্রেটারি সুরজিত মজুমদার বলেন, এটা স্পষ্ট যে তারা হামলার পর কর্তব্য থেকে নিজেদের দায় এড়াতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমি এর পেছনে আর কোনও উদ্দেশ্য তো দেখতে পাচ্ছি না। নাহলে চরম আহত একজন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে কেন এফআইআর দায়ের করা হবে।’