২৬ বছর ধরে চলা শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধে নিখোঁজ হয় প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এদের সবাই মারা গেছে বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবেয়ে রাজাপাকসে। সোমবার রাজধানী কলম্বোয় জাতিসংঘ দূতের সঙ্গে এক বৈঠকে এই স্বীকারোক্তি দেন তিনি। পরে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ সবার জন্য ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেশটির আইন অনুযায়ী, ডেথ সার্টিফিকেট না থাকলে নিখোঁজ স্বজনের সম্পত্তি, ব্যাংক একাউন্ট বা অন্যান্য সম্পদ তার পরিবারের সদস্যরা হস্তগত করতে পারেন না।
পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিন দশকেরও বেশি আগে তামিল টাইগার বিদ্রোহীরা অস্ত্র হাতে তুলে নিলে শ্রীলঙ্কায় রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এতে অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত ও প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়। নিখোঁজদের অধিকাংশই তামিল জনগোষ্ঠীর। ২০০৯ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের পরাজিত করলে গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।
এখনও প্রিয়জনদের সন্ধান দাবিতে প্রায়ই শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে নিখোঁজদের স্বজনেরা। অনেকেই আশা করে আছেন তাদের প্রিয়জন হয়তো নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক রয়েছে। তবে সরকার বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে।
তামিল টাইগার বিরোধী লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট গোটাবেয়ে রাজাপাকসে। ওই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সিংহলিজ জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগের কাছেই তিনি বীর হিসেবে প্রশংসিত হয়ে থাকেন। তবে তামিল জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাকে অবিশ্বাসের প্রবণতা রয়েছে।
সোমবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক হানা সিঙ্গার। বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে সিঙ্গার বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তারা সবাই মারা গেছে জানিয়ে পরিবারের সদস্যদেরও এটা মেনে নিতে প্রেসিডেন্ট আহ্বান জানিয়েছেন।