এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে যুক্তরাজ্য। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর পাঁচটায়) প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে যাচ্ছে তারা। কার্যকর হচ্ছে বহুল আলোচিত ব্রেক্সিট।
প্রায় ৩ হাজার কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড ব্যয়ে চূড়ান্ত হয়েছে ইইউ প্রত্যাহার চুক্তি। স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ জানুয়ারি) ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টে ৬২১-৪৯ ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয় চুক্তিটি। এর ফলে ২৮ সদস্যের অর্থনৈতিক জোটটি থেকে শুক্রবার যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়া এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
ব্রেক্সিট কার্যকরের পর এই বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পর্যন্ত রুপান্তরকাল হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ইইউ-এর সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি ছাড়াও বিশ্বের যে কোনও দেশের সঙ্গে অবাধে বাণিজ্য আলোচনা করতে পারবে যুক্তরাজ্য।
ব্রেক্সিট বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘২০১৬ সালে আপনারা কীভাবে ভোট দিয়েছিলেন সেটা আর কোনও বিষয় নয়, এখন বিশ্বায়নের দিকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাকানোর সময়, আগামী দশকে আমরা নতুন ধারণা ও পদ্ধতিতে অগ্রণী দেশে পরিণত হবো আর অতীতের বিভক্তির নিরসন ঘটাবো। ৩১ জানুয়ারি আমি সেগুলোই করতে যাচ্ছি আর যুক্তরাজ্যের সবাইকে তাই করার আহ্বান জানাচ্ছি’।
প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর পর ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করতে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ৫০ পেন্সের একটি স্মারক মুদ্রা প্রচলন করবেন। স্মারক মুদ্রাটিতে লেখা থাকছে ‘শান্তি সমৃদ্ধি এবং সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব’। শান্তির পর বিরামচিহ্ন (কমা) না পড়ায় মুদ্রাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রায় ১৩ হাজার মানুষ তা সংগ্রহের আগ্রহ প্রকাশ করে নিবন্ধন করেছে।
ব্রেক্সিট দিবস উদযাপনের অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মন্ত্রিসভার বিশেষ সফর। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং তার দলের শীর্ষ সদস্যরা ঐক্যের বার্তা হিসেবে উত্তর ইংল্যান্ডে সফরে যাবেন। তবে তারা কোথায় যাবেন তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ব্রেক্সিট কার্যকরের চূড়ান্ত ঘণ্টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এরপরই ডাউনিং স্ট্রিটে হবে স্মারক আলোক প্রদর্শনী। শুক্রবার লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ার ও মলগুলোতে টানানো হবে যুক্তরাজ্যের জাতীয় পতাকা। সন্ধ্যায় হোয়াইট হলের সরকারি ভবনগুলোতে জ্বলবে লাল, সাদা ও নীল আলো।