দিল্লির হিন্দুত্ববাদী তাণ্ডবকে পরিকল্পিত গণহত্যা বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, দিল্লিতে যা ঘটেছে তা পরিকল্পিত গণহত্যা। এখনও সেখানে মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।’ সোমবার (২ মার্চ) কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের উসকানির পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদী তাণ্ডব শুরু হয়। টানা ছয় দিনের সহিংসতায় নিহত হয় অন্তত ৪৬ জন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই তাণ্ডবে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ।
সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির ঘটনাকে পরিকল্পিত গণহত্যা আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘এখনও মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। একেকটা নর্দমা খোলা হবে আর একেকটা লাশ বেরোবে। আমি ধিক্কার জানাই। এতগুলো মানুষ, এতগুলো পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়ার ঘটনা দেখে আমার হৃদয় ব্যথিত, শোকাহত।’
এদিন মমতা আরও বলেন, ‘দিল্লির পুলিশ তো কেন্দ্রের অধীনস্ত। সেখানে আধা সেনা মোতায়েন আছে, সেনাও আছে। তাহলে কীভাবে এত বড় সহিংসতার ঘটনা ঘটলো? আপনারা চুপ করে বসেছিলেন কেন? কেন সময়মতো ব্যবস্থা নেননি? তারপরও আপনারা ক্ষমা চাননি। অবিলম্বে দিল্লিবাসীর কাছে আপনাদের ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত। এই সহিংসতা সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রীয় মদতে হয়েছে। গুজরাট মডেল নিয়ে আসতে চাইছে দিল্লিতে।’
দিল্লির সহিংসতার সঙ্গে আটের দশকের শিখ দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘কেন আমি একে গণহত্যা বলছি, কারণ, পুলিশ দাঁড়িয়ে তা দেখছিল, বাধা দেয়নি। যদিও একজন পুলিশেরও মৃত্যু হয়েছে। আমি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।’ তিনি এসময় আরও বলেন, ‘ দিল্লির সহিংসতায় যারা গৃহহীন, সন্তানহীন, আতঙ্কে যাদের দিন কাটছে, তাদের জন্য বাংলার দরজা খোলা। নিজে দু'মুঠো ভাত খেতে পেলে, তাদের একমুঠো ভাত নিশ্চয়ই দেবো।’