পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পেতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে সহায়তা করা চিকিৎসক এখন কারাগারে রয়েছেন। সেখানে থেকে অনশন শুরু করেছেন তিনি। সোমবার তার আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা এমনটাই দাবি করেছেন। শাকিল আফ্রিদি নামে ওই চিকিৎসক ভুয়া টিকা প্রকল্প চালানোর অভিযোগে অনেক দিন ধরেই গ্রেফতার রয়েছেন। তারই সহায়তায় ২০১১ সালে আল-কায়েদা নেতা বিন লাদেনকে হত্যা করতে সমর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্র।
২০১২ সালের মে মাসে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় শাকিল আফ্রিদিকে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়। পরে অবশ্য সাজা ১০ বছর কমানো হয় তার। ২০১১ সালের ওই অভিযান পাকিস্তানের জন্য, বিশেষ করে তাদের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর জন্য বিব্রতকর ছিল। এরপর শাকিল আফ্রিদিকে গ্রেফতার করা হয়। তার পক্ষে কোনও আইনজীবীও নিয়োগ করা হয়নি। তার আপিল বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাকিলের ভাই জামিল আফ্রিদি বলেন, নিজের এবং পরিবারের ওপর অবিচার ও অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে এই অবস্থান নিয়েছেন তিনি। তার আইনজীবী কামার নাদিমও এই অনশনের কথা নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন কয়েকজন আইনপ্রণেতার দাবি, এই মামলা মূলত লাদেনকে ধরিয়ে দেওয়ার কারণে করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এসে শাকিলকে মুক্ত করবেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেননি তিনি। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর পাকিস্তানে নিন্দার ঝড় ওঠে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নির্বোধ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ট্রাম্প নয়, পাকিস্তান সরকার নির্ধারণ করবে শাকিল আফ্রিদির পরিণতি কী হবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান সরকার দেশটির বেশ কিছু অলাভজনক সংস্থায় অভিযান চালিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এনজিওগুলোতে কাজ করে কর্মীরা গুপ্তচরবৃত্তি করছে এমন আশঙ্কা থেকেই পাকিস্তান এমন করছে। আর এর সঙ্গে শাকিল আফ্রিদির মামলারও সম্পর্ক রয়েছে।