নতুন করোনা ভাইরাসে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনও ওষুধ উদ্ভাবন করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। তবে ভারতের আসাম বিধানসভায় এই ভাইরাস ঠেকাতে অদ্ভুত এক চিকিৎসা পদ্ধতির কথা বলেছেন বিজেপির আইনপ্রণেতা সুমন হরিপ্রিয়া। সোমবার (২ মার্চ) বাজেট বক্তব্যে বাংলাদেশে গরু পাচার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রাণঘাতী এই ভাইরাস নিরাময়ে গোমূত্র ও গোবর ব্যবহার করা যেতে পারে। এর আগে একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন হিন্দু মহাসভা প্রধান চক্রপানি মহারাজ।
গত ৩১ জানুয়ারি (শুক্রবার)এক অনুষ্ঠানে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল হিন্দু মহাসভার সভাপতি স্বামী চক্রপানি মহারাজ বলেন, “গরুর মূত্র ও গোবর গ্রহণ করলে করোনা ভাইরাসের প্রভাব বন্ধ হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি 'ওঁম নমঃ শিবা' বলবে এবং গোবর গায়ে মাখবে তিনি রক্ষা পাবেন। করোনা ভাইরাস মারতে শিগগিরই বিশেষ যজ্ঞ করা হবে”।
সোমবার আসামের বিধানসভায় সুমন হরিপ্রিয়া বলেন, ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে গোমূত্র ও গোবর। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি গোবর খুবই উপকারী। একইভাবে গোমূত্র ছড়িয়ে দেওয়া হলে, সেই এলাকা পবিত্র হয়...আমার বিশ্বাস করোনা ভাইরাস নিরাময়ে গোমূত্র ও গোবরে একই জিনিস হতে পারে’। বাজেট বক্তব্যে বাংলাদেশে গরু পাচারের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
বিজেপির এই আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, ভারতের বিশেষ করে আসামের গরু পাচার হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রফতানিকারক। এর সব গরুই আমাদের। গরুর পাচার ঠেকাতে আগের কংগ্রেস সরকার কিছুই করেনি’। উল্লেখ্য, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গরুর মাংস রফতানিকারক দেশ ব্রাজিল। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা এরপরের স্থানটি ভারতের। দেশটি গরু হত্যার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও মহিষের মাংস রফতানি করে এই অবস্থান ধরে রেখেছে। আর মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে খুবই সামান্য পরিমাণ গরুর মাংস রফতানি করে বাংলাদেশ।
সোমবার বিজেপির আইনপ্রণেতা সুমন হরিপ্রিয়া বলেন, ‘বর্তমানে (বাংলাদেশে) গরু পাচার করতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নৌপথ ব্যবহার করা হচ্ছে’। পাচারকারীরা ভুয়া রশিদ বানিয়ে অবৈধ বাণিজ্য চালাচ্ছে অভিযোগ করে আসামের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে পশুর বাজার তদারকি করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ভারতে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সংক্রমণের ঝুঁকির আশঙ্কায় ২৫ হাজার ৭৩৮ জনকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে আলাদা থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটিতে দেশটিতে নিহত হয়েছে ২৯১২ জন। এছাড়া এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বহু দেশে।