দক্ষিণ এশিয়া গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক অবস্থায় পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। রবিবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখানে দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রচেষ্টায় দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে তাও ঝুঁকিতে পড়েছে। এরইমধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট দৃশ্যমান।
সংস্থাটি জানিয়েছে, শহর ও গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভিত্তিক লকডাউনের কারণে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে, পশ্চিমা ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করেছে এবং বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষ আকস্মিকভাবেই কর্মহীন। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যন্ত প্রতিকূল একটি ঝড়ের কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়া। পর্যটন থেমে গেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, তৈরি পোশাকের চাহিদা ভেঙ্গে পড়েছে এবং ভোক্তা ও বিনিয়োগ আস্থায় চরম অবনতি হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিলো এ বছর এ অঞ্চলের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৩ শতাংশ। আর এখন সংস্থার পূর্বাভাস হচ্ছে প্রবৃদ্ধি কমে হবে মাত্র ১.৮ থেকে ২.৮ শতাংশ। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার অর্ধেক দেশ গভীর মন্দায় পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর অন্যতম মালদ্বীপ। এ দেশটির পর্যটন বিপর্যস্ত হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ সংকোচিত হবে। আফগানিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও ৫.৯ শতাংশ সংকোচিত হবে এবং পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সংকোচিত হবে ২.২ শতাংশ।
সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক দেশ ভারতের চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র ১.৫ থেকে ২.৮ শতাংশ। যা আগের অনুমান ৪.৮-৫.০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারিতে এ অঞ্চলে অসমতা আরও প্রকট হবে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তারা স্বাস্থ্যসেবা পেলেও সামান্য পাবে, সেইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তাও খুব একটা পাবে না।
এমন বাস্তবতায় বিশ্বব্যাংক জনগণের সুরক্ষায় জরুরিভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো, বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা জনগণকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আনা ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা এবং সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তারা।