প্রায় ২৫ হাজার বন্দি মুক্তি দেবে মিয়ানমার

ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উপলক্ষে প্রায় ২৫ হাজার কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিয়ানমার। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক থাকা ২৪ হাজার ৮৯৬ জন বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হবে। এদের মধ্যে ৪৭ জন বিদেশিও রয়েছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের আনন্দ ও মানবিকতা বিবেচনায় নিয়ে এসব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে কোন ধরনের অপরাধে জড়িতরা মুক্তি পাচ্ছেন তা জানানো হয়নি বলে খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।noname  

ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উপলক্ষে প্রতিবছরই বন্দি মুক্তি দেয় মিয়ানমার। তবে মুক্তি প্রাপ্তদের মধ্যে সরকার বিরোধী ভিন্নমতালম্বীদের রাখা হয় কিনা তা স্পষ্ট নয়। অর্ধ শতাব্দী ধরে সামরিক শাসন শেষে ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসেন নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি। তার প্রথম কাজ ছিলো শত শত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দেওয়া।  

তারপর থেকেই মিয়ানমারের কারা দফতর বলে আসছে দেশে কোনও রাজনৈতিক বন্দি নেই। তবে মানবাধিকার গ্রুপগুলোর দাবি রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে বহু মানুষ আটক রয়েছে। রাজনৈতিক বন্দিদের সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তা অং মিয়ো কিয়াও বলেন, ‘সরকার মূলত রাজনৈতিক বন্দির বিষয়টি স্বীকার করে না, তবে আমরা কয়েকজনের তালিকা চেয়েছিলাম আর তারা ৭০ জনেরও বেশি মানুষের একটি তালিকা দিয়েছিল। তাদের কেউ মুক্তি পাচ্ছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।’

অলাভজনক মানবাধিকার সংস্থা আথানের হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালে মতপ্রকাশ সংক্রান্ত মামলায় ৩৩১ জনেরও বেশি মানুষের বিচার করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।   

বন্দি মুক্তির খবরের পর বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের বাইরে অনেক বন্দির স্বজন জড়ো হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই অনেকে জড়ো হন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে ৮৫ হন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে আর মারা গেছে চার জন।