পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসরায়েল: মাইক পম্পেও

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, দখলকৃত পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইসরায়েল। বুধবার তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব একান্তে ইসরায়েলি সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজ সরকার গঠনে সম্মত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এই সরকার শান্তির সম্ভাবনাটুকুও নষ্ট করে দেবে বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও

গত সোমবার নেতানিয়াহু ও গান্তজের সরকার গঠনের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, এই জরুরি সরকার প্রথম ছয় মাসে করোনাভাইরাস সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনও আইন প্রণয়ন করবে না। তবে এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জর্ডান উপত্যকাসহ পশ্চিম তীরের দখলকৃত বিভিন্ন এলাকায় ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ। আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী হলেও এই পরিকল্পনা আগামী জুলাইয়ে অনুমোদনের প্রস্তাব পার্লামেন্টে তোলা হতে পারে জানানো হয়েছে ওই যৌথ ঘোষণায়।   

এ প্রসঙ্গে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকস পম্পেও সাংবাদিকদের বলেন, ‘পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইসরায়েলিরা। এটা হবে ইসরায়েলিদের সিদ্ধান্ত। আর আমরা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে একান্তে আমাদের মতামত জানিয়ে দেবো।’

এদিকে ইসরায়েলের নবগঠিত সরকারকে দখলদার সরকার আখ্যা দিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ‘আমরা আমেরিকান ও ইসরায়েলি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি, যদি আমাদের ভূমির কোনও অংশে বসতি সম্প্রসারণ করা হয় তাহলে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবো না।’

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ ২০১৬ সালের একটি সহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ইসরায়েলি বসতি অবৈধ। এসব বসতি চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন। এই কনভেনশনে দখলকৃত এলাকায় নিজেদের জনগোষ্ঠীকে পাঠানোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বরাবর ইসরায়েলের পক্ষে আর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আর সেখানে দূতাবাস স্থানান্তর করেছে। গত বছর মার্কিন সরকার জানিয়ে দেয়, ইসরায়েলি বসতিকে আর অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করবে না তারা।