৫০ হাজার ছাড়িয়েছে ভারতে করোনা শনাক্তের সংখ্যা

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৯৫২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। দেশটিতে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে এক হাজার ৭৮৩ জনে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের মুম্বাই, দিল্লি, আহমেদাবাদের মতো ঘনবসতির শহরগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।noname

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবসতির দেশ হয়েও  করোনাভাইরাসের মহামারিতে অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও কম। ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীন ছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের চেয়েও আক্রান্তের সংখ্যা কম। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণের প্রাথমিক অবস্থাতেই কঠোর লকডাউন আরোপ করায় ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা কম রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেছেন, অন্যতম জনবহুল শহর মুম্বাই শহরের রাজ্য মহারাষ্ট্র ঘিরে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে সহায়তায় প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্য সব উপায়ে সরকার সহায়তায় প্রস্তুত- তা জনবল বৃদ্ধি হোক, সক্ষমতা বাড়ানোয়, কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তা হলেও দিতে প্রস্তুত।’

গত ২৪ মার্চ থেকে লকডাউন শুরুর পর গত সপ্তাহে কিছু কিছু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও অনুমতি দিয়েছে ভারত। কম সংক্রান্ত এলাকায় লকডাউন শিথিল করে লাখ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট লাঘবের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংক্রমণ বাড়লে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ হিসেবে আসতে পারে।

গত সপ্তাহে ভারতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার আটশো মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এই তুলনায় একই সময়ে চীনে গড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এক অঙ্কে ছিলো। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান মহামারির প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত করতে পারছে না।

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত লকডাউন ১৭ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তেলেঙ্গানা রাজ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ২৯ মে পর্যন্ত তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও বলেছেন, মানুষ নিজে থেকেই লকডাউন বাড়ানোর আবেদন করেছে।