দেশটির কিংস কলেজ হাসপাতালে এক নারী নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য কিডনির ডায়ালাইসিস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালত রায় দিয়েছে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে তার।
আদালতের রায়ে নাম প্রকাশ না করা ওই নারীর জীবনযাপনের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। রায় অনুসারে ওই নারী আবেগপ্রবণ,ব্যক্তিকেন্দ্রিক,মদ্যপায়ী আর চারবার বিবাহিত।
বিচারক ম্যাকডোনাল্ড রায়ের নৈতিক দিক ব্যাখ্যা করে জানান এটা যেকোনও ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তিনি মন্তব্য করেন, চিকিৎসা প্রত্যাখানের অধিকার সবার রয়েছে, কেননা রোগীর এটা মনে হতে পারে যে, চিকিৎসা প্রত্যাখান করেই তিনি জীবন রক্ষা করতে পারেন।
ম্যাকডোনাল্ডস বলেন, কোনও রোগী জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিতে রাজি না হলে আদালত কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ নাই। আদালত শুধু দেখবে ওই রোগীর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক সুস্থতা আছে কিনা।
ওই রোগীর জীবনযাপনের তথ্য তুলে ধরে বিচারক বলেন, ‘ওই রোগীর সার্মথ্য রয়েছে চিকিৎসা নেবেন কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার।’
মনোবিজ্ঞানি ও চিকিৎসকদের বিভিন্ন রিপোর্ট ও ওই রোগীর এক মেয়ের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করেন বিচারক। রোগীর মেয়ে জানান, তার মা তাকে বলেছিলেন জীবনের সবকিছুই বাহ্যিক সৌন্দর্য্যের ওপর নির্ভর করে। তার মা ‘গরিব’, ‘কুৎসিত’ ও ‘বৃদ্ধ’ হতে চান না।
বিচারক বলেন, ‘রোগী বলেছিলেন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জৌলুসপূর্ণ জীবনযাপন। তিনি বারবার বলেছেন জৌলুস ছাড়া তিনি বেঁচে থাকতে চান না এবং মনে করেন তিনি শারীরিক জৌলুস হারিয়ে ফেলেছেন।’
রোগীর মেয়ে জানিয়েছেন,তার মা মারা গেলে তাদের পরিবার ভেঙে যাবে। তারা মনে করেন এটা একটি ভয়ানক সিদ্ধান্ত। তবে রোগীর ওই মেয়ে মন্তব্য করেন, ‘আমরা মায়ের সিদ্ধান্ত পছন্দ করছি না। কিন্তু তিনি যেভাবে জীবনকে দেখছেন তাও অস্বীকার করতে পারছি না।’
/এএ/বিএ/