যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসে নিয়োজিত কৃষ্ণাঙ্গ কর্মকর্তাদের হাঁটু গেড়ে বসে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। শনিবার (৬ জুন) হোয়াইট হাউস এলাকায় বিক্ষোভকে স্বাগত জানালেও দায়িত্বের স্বার্থে হাঁটু গেড়ে বসতে অপারগতা প্রকাশ করেন কোনও কোনও কর্মকর্তা। তবে তারা স্বীকার করেন, এই বিক্ষোভ তাদেরও অধিকার আদায়ের আন্দোলন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
শনিবার (৬ জুন) হোয়াইট হাউস সংলগ্ন ট্রেজারি বিভাগের সামনে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী। তখন ট্রেজারি বিভাগের বেষ্টনীর ওপারে পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা। এর মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ কর্মকর্তাদেরকে হাঁটু গেড়ে বসে বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়। তখন এক তরুণ কর্মকর্তা অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি একে সাধুবাদ জানাই। আমিও কৃষ্ণাঙ্গ। আমি কী বলছি তা আপনারা কি মন দিয়ে শুনছেন? আপনারা এখনও আমার অধিকারের জন্যই লড়ছেন। তবে প্রায়োগিক কিছু বিষয় আছে যা আমরা করতে পারি না।’
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে একজন তখন অন্যদেরকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এক সেনা সদস্য। কেউ যখন ইউনিফর্ম পরা থাকে তখন কিছু নির্দিষ্ট ব্যাপার আছে যা করা যায় এবং যা যায় না।’
তারপরও কিছু বিক্ষোভকারী সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদেরকে অনুরোধ করে যেতে থাকেন। তারা বলতে থাকেন, ‘হাঁটু গেড়ে বসুন, এটা করুন।’ সিক্রেট সার্ভিসের এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী সদস্য একটু সামনে এগিয়ে হালকা করে হাঁটুতে ভর দিয়ে বসেন। বিক্ষোভকারীরা তাকে তখন হাততালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
আরেক কৃষ্ণাঙ্গ কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের বলেন, এ আন্দোলনের উদ্দেশ্যকে তিনি শ্রদ্ধা করেন। বলেন, ‘জর্জিয়ায় বেড়ে ওঠার সুবাদে আমি এ পেশায় এসেছি। আমি যা দেখেছি তা একসময় আমার মা-বাবার কাছ থেকে গল্প শুনতাম। তবে আমি আপনাদের সঙ্গে একজন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবেও কথা বলছি। সে কারণেই আমি এখানে কথা বলতে আগ্রহী হয়েছি। আমার জন্য আপনারা যেভাবে বাইরে বের হয়েছেন ঠিক তেমন করেই মনে করুন আপনাদের জন্যই আমি আজ এখানে।’