স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তারিত তথ্য মুছে ফেলার পর সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে তা আবার প্রকাশ করেছে ব্রাজিল সরকার। তিনটি রাজনৈতিক দলের আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৯ জুন) দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক অ্যালেক্সান্দ্রে ডি মোরাইস এ আদেশ দেন। এর পর পরই তথ্যগুলো পুন:প্রকাশ করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ীই করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যায় ব্রাজিলের অবস্থান বিশ্বের দ্বিতীয় এবং মৃত্যুর হিসাবে তৃতীয়। তবে দেশটিতে আক্রান্ত-মৃতের প্রকৃত সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এমন ভয়াবহ অবস্থার জন্য প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোর খামখেয়ালি সিদ্ধান্তকেই দায়ী করছেন সমালোচকরা। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত ও অঞ্চলভিত্তিক সংক্রমণের বিস্তারিত তথ্য। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বলা হয়, এখন থেকে শুধু দৈনিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাই প্রকাশ করা হবে। আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে না।
এর পরপরই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। ব্রাজিলে করোনা সংক্রমণের তথ্য গোপন ও বিকৃত করে প্রকাশের আশঙ্কা জানিয়ে বোলসোনারো সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার বিচারপতি মোরাইস সরকারি ওয়েবসাইটে করোনা সংক্রমণের বিস্তারিত তথ্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ দেন। এর জন্য সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন তিনি। সময় শেষ হওয়ার আগেই আদালতের নির্দেশ পালন করে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, গত শুক্রবার লকডাউন তোলার বিষয়ে সমালোচনা করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের এই ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটির মতে, বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারির নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে লাতিন আমেরিকা। এর মধ্যে অবশ্যই সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে ব্রাজিল।