এদিকে সোনিয়া ও রাহুলের আদালতে হাজির হওয়ার সময় দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে গুঞ্জন চললেও সে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার। কংগ্রেসের শীর্ষ সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আদালত চত্বরে বা তার বাইরে পথেঘাটে বিক্ষোভ দেখালে বিচার ব্যবস্থাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন তোলা হতে পারে। আর সেকারণে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে কংগ্রেস। আদালতের সমনকে মর্যাদা দিয়ে দলের সভাপতি ও সহসভাপতি-সহ কংগ্রেসের ৬ নেতা এজলাসে গিয়ে পৌঁছাবেন। তবে দলের সদর দফতর হয়ে নয়, সোনিয়া–রাহুল যাবেন তাঁদের বাসভবন থেকে।
ন্যাশনাল হেরাল্ডের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে সোনিয়া ও রাহুলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা ও আস্থা ভঙ্গের মামলাটি দায়ের করেন বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়ান সোয়ামি। তার অভিযোগ, দিল্লিতে ন্যাশনাল হেরাল্ডের কার্যালয়সহ মূল্যবান সম্পত্তি দখল করতে আইন ভঙ্গ করেছেন এ দুই নেতা। এই মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ার আর্জি জানিয়ে সোনিয়া ও রাহুলের করা পিটিশনটি খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। পরে সর্বোচ্চ আদালতে না গিয়েই বিচারের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কংগ্রেস নেতারা। তাদেরকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য ১৯ ডিসেম্বরের তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
১৯৩৮ সালে জওহরলাল নেহরু ন্যাশনাল হেরাল্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৩৮ সালে উত্তরাঞ্চলীয় শহর লক্ষ্ণৌ থেকে সংবাদপত্রটি প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনে পত্রিকার ভূমিকাকে উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
তবে ধীরে ধীরে পত্রিকাটির অব্যবস্থাপনা, দুর্বল সার্কুলেশন দেখা যাওয়ায় এবং রাজস্ব কমতে থাকায় ২০০৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান সোনিয়া।
সুব্রামানিয়ানের অভিযোগ, সংবাদপত্রটির প্রকাশনা সংস্থা দখলের মধ্য দিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন সোনিয়া।
তবে শুরু থেকেই অভিযোগটি অস্বীকার করে আসছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, জাতীয় সম্পদ বিবেচনায় পত্রিকাটিকে উল্টো ৯০ কোটি রুপি ঋণ দেওয়া হয়েছিল। সূত্র: এনডিটিভি,টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার
/এফইউ/বিএ/