নিজ দেশের অনুমোদন হারালো ট্রাম্পের সেই ‘গেমচেঞ্জার’ ওষুধ

করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য দেওয়া ম্যালেরিয়ার দুটি ওষুধের অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) কর্তৃপক্ষ। সোমবার মার্কিন সরকারি সংস্থাটির তরফে বলা হয়েছে এসব ওষুধের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং এই সংশ্লিষ্ট আরেক ওষুধ ক্লোরোকুইনকে করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে গেমচেঞ্জার আখ্যা দিয়ে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে করোনা চিকিৎসার গেমচেঞ্জার আখ্যা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

করোনাভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনও স্বীকৃত ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় পরীক্ষামূলক বিভিন্ন তৎপরতা চলছে। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে চীনে ফেব্রুয়ারি মাসে চালানো এক সমীক্ষার পর বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। মার্চের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ওই ওষুধ অনুমোদন করেছে। তবে তখনই দাবিটি নাকচ করে দেয় এফডিএ। তা সত্ত্বেও লোকজনের মধ্যে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন কিনে ঘরে মজুত করার হিড়িক পড়ে যায়। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন এই ওষুধের ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়। তবে মার্চে সংস্থাটি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতিতে ওষুধ দুটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে রাখে।

সোমবার সেই অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিয়ে এফডিএ জানিয়েছে, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে ওষুধ দুটি করোনাভাইরাসের কার্যকারিতা বন্ধ করতে সক্ষম নয়। ফলে বর্তমানে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার বাইরে এগুলো ব্যবহার অনুমোদন করছে না করোনা চিকিৎসার মার্কিন গাইডলাইন।

এফডিএ’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডেনিজ এম. হিন্টন এক চিঠিতে জানিয়েছেন মার্কিন হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসের অধীনস্ত বায়োমেডিক্যাল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ওষুধ দুটির অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। এই মার্কিন কর্তৃপক্ষটি জনস্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত।

প্রসঙ্গত, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ওষুধ মূলত ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। করোনাভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনও স্বীকৃত ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় পরীক্ষামূলক হিসেবে এগুলো বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হচ্ছে। করোনার চিকিৎসায় এগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তারপরেও গত ১৮ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি নিয়মিত এই ওষুধ গ্রহণ করছেন। তার সংস্পর্শে আসা দুই ব্যক্তির করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর সতর্কতা হিসেবে এগুলো গ্রহণ করছেন বলে সেদিন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, এক গবেষণায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন ব্যবহারে কোভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়ার পর গত ২৫ মে এর ব্যবহার স্থগিত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। পরে গত ৩ জুন ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সংস্থাটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ওষুধ দুটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।