অকল্যান্ডে নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে এক গাড়ি থামানোর পর এক পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে অপর এক কর্মকর্তা। ঘটনার পরই গাড়িতে করে পালিয়েছে হামলাকারী। শুক্রবার হামলার প্রায় চার ঘণ্টা পর সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে এদের মধ্যে হামলাকারী রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। নিউ জিল্যান্ডের পুলিশ সাধারণত সঙ্গে অস্ত্র বহন করে না তারপরও দায়িত্বরত অবস্থায় দেশটিতে কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা বিরল।
নিউ জিল্যান্ড পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০০৯ সালের মে মাসে দায়িত্বরত অবস্থায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নেপিয়ার শহরের একটি বাড়িতে নিয়মিত সার্চ ওয়ারেন্ট কার্যকর করার সময় চালানো গুলিতে নিহত হন এক সিনিয়র কনস্টেবল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শুক্রবার পশ্চিম অকল্যান্ডে পুলিশের ওপর হামলার পর ম্যাসে এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। স্কুলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার পর পালানোর সময় হামলাকারীর গাড়ির আঘাতে এক পথচারী সামান্য আহত হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার অ্যান্ড্রু কোস্টার নিশ্চিত করেছেন যে, হামলার সময়ে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে অস্ত্র ছিল না। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের কর্মকর্তারা প্রতিদিন যে ঝুঁকির মুখে পড়েন তার দিকেই ইঙ্গিত করছে।’
পুলিশ কর্মকর্তা নিহতের ঘটনাকে হতভম্ব করে দেওয়ার মতো খবর আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডার্ন। বলেছেন, ‘আমাদের এবং আমাদের জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ রাখতে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেন আমাদের পুলিশ কর্মকর্তারা।’
এই ঘটনার পরও পুলিশের সঙ্গে অস্ত্র রাখার পক্ষে নন কর্মকর্তারা। কমিশনার অ্যান্ড্রু কোস্টার বলেন, আমি পুনর্ব্যক্ত করতে চাই যে নিউ জিল্যান্ড পুলিশ সাধারণত নিরস্ত্র সেবা দেওয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল। তিনি বলেন, ‘জনগণের অনুভূতি কেমন সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- জনগণের সম্মতিতেই আমরা পুলিশ, আর সেটাই অগ্রাধিকার।’