এই প্রচারণা শুরু করেছিলেন পাঞ্জাবের সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজির শিক্ষার্থী নিকিতা আজাদ(২০)। নারী রজঃস্বলা কিনা তা শনাক্ত করার যন্ত্রের প্রসঙ্গ উঠলে তা নিয়েই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি। কেরালার ওই মন্দিরের বোর্ড প্রেসিডেন্ট প্রায়ার গোপালাকৃষ্ণন বরাবর এক খোলা চিঠিও লেখেন নিকিতা।সেই চিঠিতে মন্দিরে নারীর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিকে ‘পশ্চাদপদ, বর্বর ও পুরুষতান্ত্রিক’ অভিহিত করে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি।
নিকিতা বলেন, “আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি এমন একটি ঐতিহাসিক মন্দিরের ব্যবস্থাপকদের কাছ থেকে এ ধরনের বিবৃতি এসেছে। শুধু তাই নয়, আমরা ভারতীয় নারীরা প্রাত্যহিক জীবনযাপনে রজঃস্রাব নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় দেখি। নারীর মাসিক রক্তপাত কোন অসুস্থতা বা অপবিত্র বিষয় তো নয়। তবুও আমাদের মাসিক হলে তা লুকিয়ে রাখতে হয়। টেলিভিশনে স্যনিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন শুরু হলে সবাই চ্যানেল বদলানোর জন্য অস্থির হয়ে যায়।”
এদিকে মন্দির বোর্ড প্রেসিডেন্ট প্রায়ার গোপালাকৃষ্ণন দাবি করেন, তার বক্তব্যকে খণ্ডিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি জানান, কোন নারী ঋতুমতী কিনা তা শনাক্ত করার কোন যন্ত্র থাকলে মন্দিরে নারীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হতো- এই মন্তব্যটি তার নয় বরং কোন সাংবাদিকের পক্ষ থেকে এসেছিল।
তিনি বলেন, “পুরো কথোপকথন ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হলে বোঝা যাবে ওই বক্তব্য মোটেও আমার দিক থেকে আসেনি।”
তবে তার এই কৈফিয়ত ভারতীয় নারীদের নিকিতার স্পষ্টভাষী, সাহসী ও যৌক্তিক প্রচারণায় অংশ নেওয়া থেকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ফেসবুক ও টুইটারে হ্যাশট্যাগ দিয়ে হ্যাপি টু ব্লিড লিখে নারীরা নিজেদের ঋতুকালীন পণ্য, যেমন স্যানিটারি ন্যাপকিন, অন্তর্বাস ইত্যাদির ছবি প্রকাশ করেন।
নিকিতা ঘোষণা করেন, “যে ধর্ম পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অপবিত্র মনে করে, তা আমরা মানি না”, তিনি আরও ঘোষণা করেন, “এই প্রচারণা মন্দিরে প্রবেশাধিকার অর্জনের জন্য নয়, বরং সমাজে প্রচলিত বৈষম্যমূলক পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তোলার জন্য।”
উল্লেখ্য, ভারতে ঋতুমতী নারীর রান্নাঘরে প্রবেশ করা নিয়েও সংস্কার রয়েছে। নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ার হার দেখা যায় যখন কন্যাশিশুরা রজঃস্বলা হয়। গ্রামীণ ও শহরের দরিদ্র নারীরা প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা থেকে কেবল বঞ্চিত নন, শতকরা ৭০ ভাগ ভারতীয় নারী স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সূত্র দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, বিবিসি
/ইউআর/বিএ/