ভারতের উত্তর প্রদেশে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিক্রম জোশি নামের এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে দিল্লির অদূরে অবস্থিত গাজিয়াবাদে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তারপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার (২২ জুলাই) ভোরে মৃত্যুর কাছে হার মানেন এ সাংবাদিক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিক্রম গাজিয়াবাদের স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় কাজ করতেন। ভাতিজিকে রাস্তাঘাটে প্রায়শই একদল বখাটের হেনস্তার শিকার হতে হয় উল্লেখ করে সম্প্রতি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। তার চারদিন পর ওই সাংবাদিকের উপর হামলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাতে মোটরবাইকে করে ফিরছিলেন বিক্রম জোশি। বাইকের পিছনে তার দুই মেয়ে ছিল। সে সময় হঠাৎ করে দুর্বৃত্তরা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং গুলি করে পালিয়ে যায়। সোমবার রাতের ওই ঘটনার পর গাজিয়াবাদের নেহরু নগরে যশোদা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল।
গাজিয়াবাদে যে রাস্তার উপর হামলা হয়েছে, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজে গোটা ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মেয়েকে নিয়ে বাইকে ছিলেন বিক্রম জোশি। কয়েকজন লোক তার বাইকটি দাঁড় করিয়ে, হঠাৎই মারধর শুরু করে দেয়। ভয়ে দৌড়াতে থাকে দুই মেয়ে। এর মধ্যেই ওই হামলাকারীরা জোশিকে একটি গাড়ির দিকে টেনে নিয়ে গুলি করে। তার পরেই পালিয়ে যায়। সিসিটিভিতে দেখা যায়, রাস্তার উপর পড়ে রয়েছেন ওই সাংবাদিক। এক মেয়ে ততক্ষণে সেখানে ফিরে এসে, বাবার অবস্থা দেখে কান্নাকাটি শুরু করেছে। বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পথচারীদের কাছে সাহায্য চেয়ে কাতর আর্জি জানাতেও দেখা গেছে তাকে।
সাংবাদিকের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার রাতের হামলার সঙ্গে ভাতিজিকে হেনস্তার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের সম্পর্ক রয়েছে। বিক্রম জোশির ভাই অঙ্কিত জোশি জানান, ওই সাংবাদিক সম্প্রতি বিজয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক জন তার ভাতিজির সঙ্গে অশোভন আচরণ করছে। বিক্রমের ভাইয়ের দাবি, ভাতিজির সঙ্গে দুর্ব্যবহারে অভিযুক্তরাই এ হামলা চালিয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তোলেন অঙ্কিত। তার অভিযোগ, বিক্রম এফআইআর করার পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনওরকম ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। গ্রেফতারও করেনি। সেই অভিযুক্তরাই রাতের রাস্তায় পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে।
গাজিয়াবাদের এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে এই ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ৯ জন গ্রেফতারও হয়েছে। এর মধ্যে ঘটনার দিন চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা মঙ্গলবার গ্রেফতার হয়েছে।