ভারতে শনিবার একদিনে নতুন করে আরও ৪৮ হাজার ৬৬১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটিই একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। রবিবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবারের পরিসংখ্যান নিয়ে ভারতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫২২।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৭০৫ জনের। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২ হাজার ৬৩।
আক্রান্তদের মধ্যে আট লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৭ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুস্থতার হার ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
গত তিন সপ্তাহে একলাফে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে সংক্রমণ। পরপর চার দিনে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজারেরও বেশি।
এদিকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এআইআইএমএস)-এ ভারতীয় বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেটের মানবদেহে পরীক্ষার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। শুক্রবার ৩০ বছরের এক ব্যক্তির দেহে তা প্রয়োগ করা হয়।
হায়দরাবদভিত্তিক ভারত বায়োটেক করোনার এই ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট উদ্ভাবন করেছে। এটির নাম কোভাক্সিন। এতে জড়িত আছে দেশটির আইসিএমআর ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি)। সম্প্রতি কোভাক্সিনের মানবদেহে পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রকের অধিদপ্তর ডিসিজিআই।
এআইআইএমএস-এর কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক ড. সঞ্জয় রায় জানান, ইতোমধ্যে সাড়ে তিন হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক কোভাক্সিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এদের মধ্যে অন্তত ২২ জনকে যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুই দিন পরীক্ষা করা দিল্লির এক বাসিন্দা প্রথম স্বেচ্ছাসেবী হয়েছেন। তার স্বাস্থ্য ও বয়স স্বাভাবিক।
সঞ্জয় রায় বলেন, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তাকে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দুই ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। সাতদিন অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে।