মানুষের বুদ্ধিমত্তার জিনগত উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যদিও এখনও কোন বিজ্ঞানী এমন কোন জিনের কথা বলতে পারেননি, যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের নিউরোলোজিস্ট মাইকেল জনসন এবং তার সহযোগীরা নেচার নিউরোসায়েন্স নামের এক জার্নালে দাবি করেছেন, তারা একটি নতুন উত্তর খুঁজে পেয়েছেন।
মস্তিস্কে থাকা বুদ্ধিমত্তার ৪০ শতাংশ মানুষ সহজাতভাবে পেয়ে থাকে। বাকী ৬০ ভাগ কী করে, কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত হয় তা এখনও অজানা। তবে জনসন এবং তার সহযোগীরা দাবি করছেন, তারা হয়তো বুদ্ধিমত্তার পুরোটারই গঠনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে যাচ্ছেন এবং এর মধ্য দিয়ে তারা মানুষের বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন সাধনেও ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন।
ভিন্ন ভিন্ন অবধারণ ক্ষমতার সমন্বিত রূপ হিসেবে কী করে বুদ্ধিমত্তা গঠিত হয় এবং মানুষের মধ্যে কিভাবে তা কাজ করে, তা একটা কিছু দিয়ে মাপা যায় না। কিন্তু ড. জনসনের দাবি, এটা পরিমাপযোগ্য। জনসন বলছেন, তিনি এবং তার সহযোগীরা গবেষণা করে দেখেছেন, জিনের দুইটি নেটওয়ার্ক সম্ভবত একটি প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়, যার কারণে মানুষ কোন কিছুর সমাধানসূত্র খুঁজে পেতে সমর্থ হয়, মানসাঙ্ক করতে পারে, কৌশলগত পরিকল্পনা নিতে পারে অথবা কবিতা বা অন্যকিছু পড়ে হাসতে পারে।
বুদ্ধিমত্তার বোঝাপড়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জনসন বলেন, মানুষের অবধারণের সক্ষমতা উন্নত করতে ড্রাগের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। এই যেমন আমরা কফি খেয়ে আমাদের সক্ষমতা বাড়াই। তবে তাদের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তারা নির্দিষ্ট করে স্বাস্থ্য এবং রোগের ক্ষেত্রে অবধারণ সক্ষমতা সুনির্দিষ্ট করে কোন কোন জিনের উপর নির্ভরশীল তা খুঁজে বের করতে পারবেন।
জনসন বলেন, ‘আমরা জানি, মানুষের বুদ্ধিমত্তায় জীনগত ভূমিকা রয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন জিন এই ভূমিকা পালন করে তা এখনও আমরা জানি না।’ তাদের গবেষণার উদ্দেশ্য কোন কোন জিন এই বুদ্ধিমত্তায় কাজ করে এবং কিভাবে তারা পরস্পরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভূমিকা পালন করে তা খুঁজে দেখা। জনসন দাবি করেন, গবেষণা করে তারা এমন জিনের সন্ধান পেয়েছেন যেগুলো একই নিয়মে মানুষের মস্তিস্কে কাজ করে। তাদের আশা, কৃত্রিমভাবে এই জিনগুলো বানানো সম্ভব এবং তা মানুষের মস্তিস্কের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব।
এই গবেষকদের দাবি, জিনের যে দুইটি নেটওয়ার্ক সম্ভবত একটি প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয় সেগুলোর একটিকে তিনি নাম দেন এম ১, অপরটিকে বলেন এম ২। এম ১ এ ১০০০ জিন এবং এম ২ তে ১শ’র কিছু বেশি জিন থাকার কথা বলেন তারা, যেগুলো মৃগীরোগ, সিজোফ্রেনিয়া, প্রতিবন্ধীত্ব এইসব রোগের সঙ্গে যুক্ত। সে কারণে তারা আশাবাদী যে, এই গবেষণা পূর্ণাঙ্গ সফলতা পেলে একসময় মৃগীরোগ, সিজোফ্রেনিয়া, প্রতিবন্ধীত্ব ঘুচিয়ে মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হবে।
/বিএ/
/আপ:আরএ/