ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট

তুমুল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলার মধ্যে সরকারি কারখানা শ্রমিকদের সমর্থন আদায় করতে গিয়ে উল্টো ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেনকো। তাকে দেখে উৃত্তেজিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। লুকাশেনকোকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে পদত্যাগের আহ্বান জানান তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।  

প্রায় ২৬ বছর ধরে বেলারুশের ক্ষমতায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট লুকাশেনকো।সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তার সরকারের বিরুদ্ধে বেলারুশে চলছে তুমুল বিক্ষোভ। লুকাশেনকোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি, জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখা ও বিরোধীদের নির্মূলের অভিযোগ এনেছেন বিক্ষোভকারীরা। আর তাদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পুলিশি হেফাজতে মারা গেছেন ২ জন বিক্ষোভকারী। আটক হয়েছে ৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। এরইমধ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন টেলিভিশন কর্মী ও কারখানার শ্রমিকরা।

চলমান আন্দোলনের মধ্যেই শ্রমিকদের সমর্থন আদায়ে সোমবার সরকারি একটি কলকারখানা পরিদর্শনে যান লুকাশেনকো। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চরম ক্ষোভের মধ্যে পড়েন তিনি। অনেকে ‘পদত্যাগ করুন’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। এমন আচরণে লুকাশেনকো চমকে উঠলেও তিনি বক্তৃতা চালিয়ে যেতে থাকেন।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বলছেন নির্বাচন অস্বচ্ছ হয়েছে। স্বচ্ছ একটি নির্বাচন চান।’ জবাবে শ্রমিকরা বলে ওঠে ‘হ্যাঁ তাই চাই’। তখন লুকাশেনকো আবার বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমার জবাব হলো নির্বাচন হয়ে গেছে, যতক্ষণ না আপনারা আমাকে হত্যা করছেন, ততোক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই।’

লুকাশেনকো্ সংবিধান পরিবর্তন করারও একটি প্রস্তাব দেন। বলেন, ‘সংবিধানে পরিবর্তন এনে গণভোটের ব্যবস্থা করব। আমি আমার সাংবিধানিক ক্ষমতা হস্তান্তর করব। তবে কোনও চাপের মুখে বা রাস্তায় বিক্ষোভের কারণে নয়।’

এদিকে ইইউ-র নেতারা বুধবার বেলারুশ নিয়ে জরুরি বৈঠক করবেন। ইউক্রেন তাদের রাষ্ট্রদূতকে বেলারুশ থেকে ডেকে পাঠিয়েছে। লিথুয়ানিয়া ঘোষণা করেছে, বেলারুশ থেকে কেউ যদি মানবিক কারণে তাদের দেশে আশ্রয় নিতে চান, তা হলে তারা আশ্রয় দেবে।