বোনের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন কিম জং উন?

সহোদর বোন কিম ইয়ো জংসহ ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, উত্তর কোরীয় নেতা এখনও নিজের হাতে সর্বাত্মক ক্ষমতা রাখলেও চাপের মাত্রা কমাতে বেশ কিছু নীতি নির্ধারণী দায়িত্ব অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তবে অতীতে উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে দক্ষিণ কোরীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া বেশ কিছু ভুল প্রমাণিত হওয়ার নজির রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।কিম ইয়ো জং

দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে গোয়েন্দা সংস্থা। পরে গোয়েন্দাদের সরবরাহ করা তথ্য নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন আইনপ্রণেতারা। গোয়েন্দা সংস্থার তরফে জানানো হয়, কিম জং উন এখনও সর্বাত্মক ক্ষমতা ধরে রেখেছেন, তবে অল্প অল্প করে তিনি তা অন্যদের হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন।

কিম ইয়ো জং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পিয়ংইয়ংয়ের নীতি ঠিক করেন। এছাড়াও আরও কিছু নীতি নির্ধারণের ক্ষমতাও রয়েছে তার। তবে ক্ষমতা বাড়ানোর পর তার আওতা কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা বলছে নিজের ওপর চাপ কমাতে এবং ভবিষ্যতে কোনও ব্যর্থতা ঘটলে তার দায় এড়াতেই ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিম জং উন। তবে নিজের উত্তরাধিকার হিসেবে কাউকে বেছে নেননি তিনি।

কিম জং উনের সহোদর ছোট বোন কিম ইয়ো জং। একমাত্র এই বোনকেই তার ঘনিষ্ঠ ও ক্ষমতাধর মিত্র বলেই মনে করা হয়। ১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া কিম ইয়ো জং এবং কিম জং উন এক সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের বার্নে পড়াশোনা করেছেন। ২০১৮ সালে ভাইয়ের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে গিয়ে প্রথমবার আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেন কিম ইয়ো জং। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ভাইয়ের সম্মেলন আয়োজনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।