ভারতকে পরমাণু অস্ত্রের ভয় দেখালেন পাকিস্তানি মন্ত্রী

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অচলাবস্থার মধ্যে নতুন বোমা ফাটিয়েছেন পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ। প্রধানমন্ত্রী ইরমান খানের এই ঘনিষ্ঠ সহজন সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র দিয়ে জবাব দেবে। তবে ভারতের মুসলিমরা যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সে দিকে খেয়াল রাখা হবে।

noname

১৯ আগস্ট (বুধবার) পাকিস্তানের শামা টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন রাশিদ। সেখানে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠেছিল। রশিদ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে স্থলযুদ্ধে যেতে চায় না পাকিস্তান। যুদ্ধ হলে ভারতকে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে জবাব দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে রশিদের বক্তব্য, পাকিস্তানের কাছে ছোট আকারের বেশ কিছু পরমাণু অস্ত্র আছে। যা নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবহার করা সম্ভব।

শেখ রশিদ বলেন, 'পাকিস্তানের হাতে ১২৫ গ্রাম ও ২৫০ গ্রাম ওজনের ক্ষুদ্র পরমাণু বোমা রয়েছে। সেই পরমাণু বোমার নিশানা হতে পারে আসাম পর্যন্ত।’ তবে ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার হুমকি দিলেও ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের কোনও ক্ষতি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রাশিদ বলেন, ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলি যাতে পরমাণু অস্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পায়, সে দিকে খেয়াল রাখবে পাকিস্তান।

স্বাভাবিক ভাবেই পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রীর এমন বয়ানে আলোড়ন শুরু হয়েছে। ভারতের কূটনৈতিক মহলে এই মন্তব্যের নিন্দা হয়েছে। তবে সরকারি ভাবে রাশিদের এই মন্তব্যের কোনও উত্তর এখনও দেওয়া হয়নি।

ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালাকোট হামলা এবং পরবর্তী সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সময় থেকেই ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তা আরও ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে গত বছর ভারত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায়। সে সময় কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল দুই দেশের মধ্যে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও সে সময় পরমাণু অস্ত্রের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, দুইটি পরমাণু শক্তি যুদ্ধে নামলে তার ফলাফল কী হতে পারে, ভারতের তা মনে রাখা উচিত।

কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে শেখ রশিদের ভারতকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরেও তিনি পাকিস্তানের হাতে ১২৫-২৫০ গ্রামের ক্ষুদ্রতর পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়ে গর্ব করেছিলেন।