ফ্রান্সের রম্য সাময়িকী শার্লি এবদোর অফিসে ২০১৫ সালের হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শুরু হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৪ জনকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মহানবী (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের জেরে ম্যাগাজিনটির অফিসে হামলা চালানো হয়েছিল। এতে কার্টুনিস্টসহ ১২ জন নিহত হয়। এর কয়েক দিনের মাথায় প্যারিসে এই ঘটনা সংক্রান্ত আরেকটি হামলায় নিহত হয় পাঁচ জন।
২০২০ সালের মার্চে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তা পিছিয়ে যায়। এই বিচার কাজ নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
বিচার শুরুর আগ মুহূর্তে ফের সেসব বিতর্কিত কার্টুন প্রকাশ করেছে শার্লি এব্দো। এমন ১২টি কার্টুন দিয়ে তাদের সাম্প্রতিক সংস্করণের প্রচ্ছদ করা হয়েছে।
বিচারের মুখে থাকা ১৪ সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারির ওই ঘটনায় দুই ভাইয়ের চালানো বন্দুক হামলায় সহযোগিতা করেছিল তারা।
শার্লি এব্দোর সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তাদের কাছে প্রায়ই অনুরোধ এসেছে যে, তারা যেন মহানবীর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ছাপানো অব্যাহত রাখে। তবে আমরা সব সময়ই এই অনুরোধ প্রত্যাখান করেছি। আইনত এ ধরনের কার্টুন প্রকাশে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু এটি প্রকাশের জন্য কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে, এমন কোনও কারণ যা বিতর্কের খাতিরে সামনে আনা যুক্তিসঙ্গত হবে।’
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘২০১৫ সালের সেই সন্ত্রাসী হামলার বিচার যেহেতু এ সপ্তাহে শুরু হচ্ছে, তাই কার্টুনগুলো পুনরায় প্রকাশ করা আমরা দরকার বলে মনে করেছি।’
মামলায় কী বলা হচ্ছে?
শার্লি এবদোর প্যারিসের দফতরে এবং পরে ইহুদিদের একটি সুপার মার্কেট ও একজন পুলিশ অফিসারের ওপর হামলায় সহযোগিতার জন্য ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা বন্দুকধারীদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা উত্তর সিরিয়া ও ইরাকে পালিয়ে গেছে।
ফ্রান্সের আরএফআই সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ধারণা করা হচ্ছে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং আইনজীবী মিলিয়ে প্রায় ২০০ ব্যক্তি এই মামলায় সাক্ষ্য দেবেন।
২০১৫ সালে কী ঘটেছিল?
২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি দুই ভাই সাঈদ এবং শেরীফ কুয়াচি শার্লি এবদোর অফিসে অতর্কিতভাবে ঢুকে পড়ে এবং গুলি চালাতে শুরু করে। সাময়িকীর সম্পাদক স্তেফানি শার্বনিয়ার যিনি শার্ব নামে বেশি পরিচিত ছিলেন, তিনি এবং আরও চারজন কার্টুনিস্ট মারা যান। বাকি নিহতেদের মধ্যে ছিলেন দুজন কলাম লেখক, একজন কপি এডিটর, একজন অতিথি (যিনি একটি বৈঠকে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন) ও অফিসের কেয়ারটেকার। সম্পাদকের দেহরক্ষী এবং একজন পুলিশ অফিসারও ঘটনায় নিহত হন। হত্যা করা হয় দুই হামলাকারীকে।
কুয়াচি ভ্রাতৃদ্বয়ের পরিচিত আমেদী কুলিবালি নামে এক ব্যক্তি ইহুদিদের একটি সুপারমার্কেটে কয়েকজন ব্যক্তিকে পণবন্দী করে এবং তার আগে একজন পুলিশ অফিসারকে হত্যা করে। ওই ব্যক্তি ৯ই জানুয়ারি চার ইহুদিকে হত্যা করে। এরপর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এক ভিডিও রেকর্ডংয়ে কুলিবালি বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর হয়ে ওই হামলা চালানো হয়েছে। সূত্র: বিবিসি, ফ্রান্স ২৪।