চীনা কূটনীতিকদের ওপর বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের

চীনা কূটনীতিকদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনের শীর্ষ কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শনের আগে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া ৫০ জনের বেশি ব্যক্তির অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যও একই ধরনের অনুমতির প্রয়োজন হবে। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা চীনের সবকটি দূতাবাস ও কনস্যুলার যেন ‘যথাযথভাবে চিহ্নিত’ করা যায়; সেটি নিশ্চিতেও কাজ করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, চীনে মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর বেইজিং-এর বিধিনিষেধের পাল্টা হিসেবে এ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর বাইরে এটিকে চীনা গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের লড়াইয়ের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাইক পম্পেও বলেছেন, আমরা শুধু পারস্পরিক অধিকার দাবি করছি। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কূটনীতিকরা যেসব সুবিধা পান; চীনেও মার্কিন কূটনীতিকদের সেসব সুবিধা পাওয়া উচিত। আজকের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সেই পথেই হাঁটতে চলেছে।

এদিকে চীনা কূটনীতিকদের ওপর মার্কিন বিধিনিষেধকে ভিয়েনা কনভেনশনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। চীনের সরকার নিয়ন্ত্রিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমসে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তার ভুল সংশোধন করা, এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কূটনীতিকদের প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।

এদিকে কূটনীতিকদের ওপর বিধিনিষেধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা চীনা কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সবকটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আশাবাদ জানিয়ে বলেছেন, ২০২০ সালের শেষ নাগাদ চীনের এসব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো দেশ ছাড়বে। ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কে অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি চীনা ইনস্টিটিউটগুলোকে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত করেন।

পম্পেও বলেন, তার প্রত্যাশা চীনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস ছেড়ে যাবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকেই তাদের (চীনাদের) সঙ্গে যুক্ত থাকার ঝুঁকি বিবেচনায় নেবে।

চীনের সরকারি তহবিল পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে গুপ্তচর নিয়োগের জন্য কাজ করে বলেও অভিযোগ করেন পম্পেও। তিনি বলেন, আমি মনে করি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিষয়টি অনুধাবনে সক্ষম হবে। আমি আশাবাদী যে, এই বছরটি শেষ হওয়ার আগেই এগুলো (চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র) বন্ধ করে দেবো।’

উল্লেখ্য, চীনা চরবৃত্তি নিয়ে এমনিতেই ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক উদ্বেগ কাজ করছে। গত মাসেই চীনের কাছে গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক একজন কর্মকর্তা।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আলেক্সান্ডার ইয়োক চিং মা (৬৭) নামের সাবেক ওই গোয়েন্দা বেশ কয়েক বছর ধরে এ কাজে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আরেক সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে তথ্য বিক্রির বিনিময়ে লাখ লাখ ডলার ও উপহার গ্রহণ করেন চিং মা। সূত্র: রয়টার্স, ফক্স নিউজ।