শিশুকে সহিংস আটকের ঘটনায় সমালোচনার মুখে হংকং পুলিশ

 বিক্ষোভস্থল থেকে সহিংস কায়দায় ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে গ্রেফতারের ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে হংকং পুলিশ। পরিবারের দাবি, অঙ্কন সামগ্রী কিনতে দোকানে গিয়েীছল তাদের সন্তান। ফেরার পথে বিক্ষোভের মাঝখানে পড়ে যায় সে। ভয় পেয়ে দৌড়াতে থাকলে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

হংকং পুলিশ

চীনের বিশেষ আইন লঙ্ঘন করে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বহু মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। নির্বাচন বাতিল করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা আন্দোলনে নামেন। এদিন প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। হংকংয়ের পুলিশ বিভাগ নিজেরাই টুইট করে এ খবর জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের একটি দলকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তখনই সে ভিড় থেকে বের হয়ে এক শিশু দৌড়ানোর চেষ্টা করে। এক পুরিশ সদস্য তখন তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। আরও কয়েকজন শিশুটিকে মাটিতে চেপে ধরে রাখতে ওই পুলিশ সদস্যকে সহযোগিতা করে।

কয়েক ঘণ্টা পর দেওয়া এক বিবৃতিতে হংকং পুলিশ জানায়, ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে গ্রেফতার করেছে তারা। কারণ সে সন্দেহজনকভাবে দৌড়াচ্ছিলো এবং তাকে ধরতে ‘খুবই কম শক্তি’ প্রয়োগ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিষিদ্ধ ওই জমায়েতে সে শিশুর অংশগ্রহণ দেখে পুলিশ উদ্বিগ্ন হয়েছিল। এ ধরনের বিশৃঙ্খল বিক্ষোভস্থলে তাদের উপস্থিতি মূলত তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই হুমকি।

মেয়েটির মা অ্যাপল ডেইলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা ও অভিযোগ দায়ের করবেন।

গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতা ক্লাউডিয়া মো বলেন, মেয়েটির বিরুদ্ধে পুলিশ যে ব্যবস্থা নিয়ে তার মধ্য িদিয়ে বোঝা যায় তারা কতটা অহেতুক কার্যকলাপ চালায়।

এ মাসেই হংকংয়ের লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির কথা বলে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাসেম্বলিতে ৫০ শতাংশ প্রতিনিধি জনগণের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত হন। বাকি ৫০ শতাংশ মনোনীত। মনোনীত প্রার্থীরা অধিকাংশই চীনের কমিউনিস্ট শাসকদের অনুগত। তবে গণতন্ত্রপন্থীদের ধারণা ছিল, ভোট হলে বাকি ৫০ শতাংশ আসনের অধিকাংশই তাদের দখলে আসত।

গণতন্ত্রপন্থীদের দাবি, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হংকংয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৬০০। অন্য দেশের তুলনায় যা কোনও সংখ্যাই নয়। এই পরিস্থিতিতে করোনার জন্য ভোট পিছিয়ে দেওয়া কোনও যুক্তি হতে পারে না।