অপহরণের শিকার হওয়ার এক দিন পর বেলারুশের বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোলেসনিকোভাকে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে আটকের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে মঙ্গলবার সকালে তাকে আটক করা হয়। ওই সময়ে অপর দুই বিরোধী নেতা ইউক্রেনে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী মিনস্কের কেন্দ্রস্থল থেকে একটি মিনিবাসে মারিয়া কোলেসনিকোভাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় একদল মুখোশধারী। তাকে গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে পুলিশ। বিরোধীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে সন্ত্রাসী প্রক্রিয়া ব্যবহার শুরু করছে প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেনকোর সরকার। এর এক দিনের মাথায় তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে আটকের কথা প্রকাশ করা হয়।
বেলারুশের এক সীমান্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মারিয়া কোলেসনিকোভাসহ অপর দুই বিরোধী নেতা অ্যান্টন রোদনেনকভ ও ইভান ক্রাভটোসভ একটি বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। দ্রুত গতিতে সীমান্ত অতিক্রমের সময় গাড়ি থেকে মারিয়া ছিটকে পড়েন বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
তবে ইউক্রেনের উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টন জেরাশেনকো জানিয়েছেন, তাদের দেশে পৌঁছানো বেলারুশের দুই বিরোধী নেতাকে জোর করে পাঠানো হয়েছে। আর মারিয়াকেও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হলেও বেলারুশ কর্তৃপক্ষ তাতে ব্যর্থ হয়।
গত ২৬ বছরের শাসনকালে সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে পড়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেনকো। গত ৯ আগস্ট দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর শুরু হয় তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ। টানা চার সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভের প্রাথমিক দিনগুলোতে অনড় অবস্থানে থাকলেও সম্প্রতি সংবিধান সংস্কারে নিজস্ব প্রস্তাবনা তুলে ধরে এনিয়ে গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তা উপেক্ষা করে গত রবিবারও রাজধানী মিনস্ক ছাড়াও বড় বড় কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ করেছে বেলারুশের লাখ লাখ মানুষ। এদিন ছয়শ’রও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ওই বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক মারিয়া কোলেসনিকোভা। এই বিক্ষোভের অন্য দুই নারী সংগঠক বেলারুশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হলেও নিজ দেশে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় বজায় রেখেছেন তিনি।