সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে উত্তর প্রদেশের এক দলিত নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত জুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। ক্রম বর্ধমান এ ক্ষোভের মুখে রাজ্যের হাথরাস জেলা সুপারিনটেন্ডেন্টসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একটি বিশেষ তদন্ত দলের প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন অপরাধী এবং নিহতের পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মিথ্যা শনাক্তকারী পরীক্ষা করানোরও আহ্বান জানিয়েছে তদন্তকারীরা। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে চার উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ধর্ষণ করে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিল্লির হাসপাতালে ২০ বছরের ওই তরুণী মারা যান। চিকিৎসকেরা জানান, ওই নারীর মেরুদণ্ডসহ শরীরের একাধিক হাড় ভাঙা ছিল। এছাড়া কেটে ফেলা হয় তার জিহ্বা। ওই দিন রাতেই পুলিশ তার দেহ সৎকার করে। অভিযোগ রয়েছে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জোর করে তার দেহ আত্মীয়দের থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। পরিবারকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী মিলে রাত আড়াইটায় তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দেন। বিক্ষোভ এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
হাথরাসের এই ঘটনায় শুক্রবারও ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। দিল্লিতে এমনই এক বিক্ষোভে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং দলিত সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ভিম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ।
এসব বিক্ষোভ থেকে ওই ঘটনায় হাথরাস পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। বিশেষ করে জোর করে ওই নারীর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া ওই নিহতের গ্রামে সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করা হয়।
এদিকে, এই ইস্যুতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। তলব করা হয়েছে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তাদের।
ধর্ষণ ও নৃশংসতার শিকার হয়ে ওই নারী মারা গেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানালেও গত বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার দাবি করেন, তার মৃত্যুর কারণ ঘাড়ে আঘাত পাওয়া। তিনি বলেন, তার ফরেনসিক নমুনায় কোনও স্পার্ম (শুক্রাণু) পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উত্তর প্রদেশের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দলটির অভিযোগ, কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুতে রাজনীতির সুযোগ খুঁজছে।
গত কয়েক বছরে উত্তর প্রদেশে একই ধরণের বেশ কয়েকটি ঘটনার জেরে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও জানানো হচ্ছে পদত্যাগের আহ্বান। তবে এর কোনওটিই দৃশ্যত আমলে নিচ্ছেন না তিনি। শুক্রবারও তিনি বলেন, ‘যারা কোনও নারীর আত্মমর্যাদা নষ্টের চিন্তাও করবে, তারা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।’