পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদে কিরগিজস্তানে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ। গত রবিবার দেশটিতে নির্বাচনের পর সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানী বিশকেকে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। এছাড়া সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশটির আরও কয়েকটি বড় শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। বেশ কিছু স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ও জল কামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কিরগিস্তানের পার্লামেন্ট সুপ্রিম কাউন্সিল-এর আসন সংখ্যা ১২০টি। দেশটির আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন বন্টন করা হয়। তবে পার্লামেন্টে কোনও আসন পেতে গেলে কোনও দলকে ন্যূনতম সাত শতাংশ ভোট পেতে হয়।
এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেয় কিরগিজস্তানের ১৬টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে কেবল চারটি দল পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে পেরেছে। এর মধ্যে তিনটি দল আবার প্রেসিডেন্ট সরোনবাই জিনবেকভের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। এদের মধ্যে দুটি দল ২৫ শতাংশ করে ভোট পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোট কেনাবেচা এবং হস্তক্ষেপের দাবি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ এবং মারাত্মক উদ্বেগের কারণ।
এমন প্রেক্ষাপটে কিরগিজস্তানের বিরোধী দলগুলো ভোটের ফলাফল স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলাফল বাতিল করতে দেশটির নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী দলীয় প্রার্থীরা।
প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীর উদ্দেশে এক প্রার্থী রিয়েসকেলডি মোমবেকভ বলেন, ‘সততার সঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। তিনি তার প্রতিশ্রুতি রাখেননি।’ এই প্রার্থীর দল আতা মেকেন পার্লামেন্টে প্রবেশের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট পায়নি দলটি। বিক্ষোভের সময় আহত হয়েছেন দলটির নেতা জানার আকায়েভ। বিক্ষোভকারীরা এখন প্রেসিডেন্টের পদত্যাগও দাবি করছেন।
ইউরোপের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার প্রধান থমাস বোসেরাপ এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ভোটের আয়োজন যদিও সাধারণভাবে সুসংগঠিত হলেও ভোট কেনাবেচার অভিযোগ ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ।
রাজধানী বিশকেকের মূল চত্বরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জল কামান, সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। পরে বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও তাদের তাড়া করে পুলিশ। পুলিশ-বিক্ষোভকারীসহ উভয় পক্ষ থেকেই আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন অন্যতম বিরোধী দলীয় নেতা জানার আকায়েভ।
বিশকেকের আলা-তু চত্বরে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ দিনভর মূলত শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। তবে স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে ছোট একটি গ্রুপ পার্লামেন্ট ভবনের গেট ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এরপরই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করা হবে না। তবে পার্লামেন্ট ভবনের ঘটনাকে উস্কানি হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছে তারা।
প্রায় এক চতুর্থাংশ করে ভোট পাওয়া কিরগিজস্তানের দুই শীর্ষ রাজনৈতিক দল হলো বিরিমদিক এবং মেকেনিম। প্রেসিডেন্ট সরোনবাই জিনবেকভের ছোট ভাই আসিলবেক জিনবেকভ রয়েছেন বিরিমদিক দলে।
অপরদিকে মেকেনম কিরগিজস্তান দলটির সঙ্গে দেশটির ক্ষমতাধর মাত্রাইমভ পরিবারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত বলে মনে করা হয়। পরিবারটির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি রায়িমবেক মাত্রাইমভ গত বছর দেশটির দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। ধারণা করা হয়ে থাকে ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট সরোনবাই জিনবেকভের নির্বাচনি প্রচারণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন রায়িমবেক মাত্রাইমভ।